কপিলমুনিতে প্রকাশ্যে আটক দুইভাইকে মাদক মামলায় চালান,ষড়যন্ত্রমূলক দাবি

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি : দুভাই অপু ও দিপু গ্রেফতারের ঘটনায় মা হোসনেয়ারা বেগম দু’ছেলেকে গ্রেফতারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরে সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি একজন অসহায় মা। আমার দু’সন্তানকে কপিলমুনি ফাঁড়ির পুলিশ গত ২৩ মে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার সন্তান অপু ও দিপু দু’ভাই সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির দারোগা অভিজিৎ রায় প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে কপিলমুনি বাজারের মাছকাটা সংলগ্ন রাস্তা থেকে আমার দু’ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময় জনসম্মুখে তাদের কাছে কোনো মাদক দ্রব্য খুঁজে পায়নি। যা সবাই দেখেছে। এমতাবস্থায় পুলিশ তাদেরকে ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আমি ফাঁড়িতে গেলে আমাকে ঢুকতে দেয়নি দারোগা অভিজিৎ। তদুপরি আমি আমার ছেলেদেরকে নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে দারোগা অভিজিৎ আমাকে বলেন, ‘এখন কোনো কথা বলবো না, যা বলার থানায় যেয়ে বলেন।’ এই কথা বলে দ্রুত দুটি মোটর সাইকেল বের করে দুছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মিথ্যা মাদক মামলায় দু’ভাইকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমার বড় ছেলে অপু সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ইজিবাইক সমিতির অধিনে পাটকেলঘাটা রুটে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ছোট ছেলে দিপু কপিলমুনি কলেজে পড়াশোনা করে। ঈদ উপলক্ষে বড় ছেলে অপু বাড়িতে আসলে ঘটনার দিন তারা দুভাই কপিলমুনি বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে গত ২৩ মে সকাল ১০ টার দিকে কপিলমুনি বাজারে যায় তারা। সেমাই, চিনি ও অন্যান্য ঈদ সামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরার পথে কপিলমুনি বাজারের জনবহুল এলাকা মাছকাটা রোডে পৌঁছালে দু’ভাই কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তল্লাশি করা হলেও পুলিশ কিছুই পায়নি। তারপরও তাদেরকে থানায় নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এ মামলা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক।

তিনি জানান, আমার স্বামী শেখ শাহাজুল ইসলাম একজন প্যারালাইসিস রোগী। তিনি হাটাচলা করতে পারেন না। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো আমার দু’ সন্তানের এমন পরিস্থিতিতে পিতামাতা হিসাবে আমরা আজ বড় অসহায়। মামলার কাগজ উঠিয়ে দেখি দারোগা অভিজিৎ রায় আমার দু’ছেলের কাছ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধারের বর্ণনা লিখেছেন আরজিতে। এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।