ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মীনাথকাটি দাখিল মাদরাসা : ঠিক করতে প্রয়োজন ৪ লক্ষাধিক টাকা

কেশবপুর প্রতিনিধি  : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে যশোরের কেশবপুরে লহ্মীনাথকাটি দাখিল মাদরাসা ভবনের সমস্ত টিন উড়ে গিয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বর্তমান মসজিদে চলছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রাম। অফিস কক্ষের টিন উড়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র। এ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযুক্ত করতে হলে ৪ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ফান্ডে কোনো টাকা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় লহ্মীনাথকাটি দাখিল মাদরাসাটি স্থাপিত হয়। মাদরাসাটিতে ইবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত ২৭০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে ১৫ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫০ বছরেও মেলেনি সরকারি কোন ভবনসহ অর্থ। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় মাদরাসাটির আধাপাকা ভবন করে টিনের ছাউনি দেয়া হয়। অফিস রুম, মাল্টিমিডিয়া রুমসহ ১১টি শ্রেণির কক্ষ নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি চলতে থাকে।

গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে মাদরাসা ভবনের সমস্ত টিন উড়ে গিয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রাতভর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায় অফিস কক্ষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আসবাবপত্র। সেই থেকে পাশের মসজিদে চলছে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রাম।

মাদরাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, মাদরাসাটি বর্তমান নানাবিধ সংকটে রয়েছে। এর ফান্ডে কোনো টাকা নেই। এরপরও সমস্ত ভবনে টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। অর্থাভাবে চেয়ার, বেঞ্চ, আসবাবপত্র দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হচ্ছে না।  সংস্কারের অভাবে মাঠে সব সময় পানি জমে থাকে।

মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুস সাত্তার জানান, মাদারাসাটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫০ বছরেও মেলেনি কোনো সরকারি অর্থ। ভবনের টিন ঝড়ে উড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সমস্ত ভবনে টিনের ছাউনি দিতে গেলে ৪ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। মাদরাসাটি টিকিয়ে রাখতে হলে এ মুহূর্তে এর নতুন একটি ভবনের প্রয়োজন। গৃহ ও আসবাবপত্র সংস্কারের জন্য অনুদান চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিক আবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ঝড় হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তালিকা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। আশাকরি বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এ উপজেলায় শুধু ওই মাদরাসাই নয় ঝড়ে আরও ১২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠিান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।