বেইজিংয়ে করোনার সংক্রমণ, ‘যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা’ জারি

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে শুরু হয়ে মহামারিতে পরিণত হয়েছে কোভিড-১৯। তবে পরিস্থিতি প্রায় সম্পূর্ণই নিয়ন্ত্রণে এনেছিল চীন, শুরু হয়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাপন। এবার দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের একটি জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ফলে জেলাটিতে ‘যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বেইজিংয়ে পর্যটন, খেলা এবং জনসমাবেশের সব স্থান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

বেইজিংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ফেংতাই জেলার শিনফাদি পাইকারি কাঁচাবাজারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ওই বাজারের ৫১৭ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জেলা কর্মকর্তা চু জুনওয়েই এ তথ্য জানান। এ সংক্রমণ কেন্দ্র করে চীনে দ্বিতীয়বার করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনাক্ত রোগীদের কারো মধ্যে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে এ ঘটনার পরপরই এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি এ কাঁচাবাজারের আশপাশের ১১টি এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকাগুলো ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছে। এমনকি জেলাটিতে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

শনিবার চীনের স্থানীয় সময় ভোর ৩টায় শিনফাদি বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি মাংস গবেষণা কেন্দ্রের দু’জন কর্মী, যারা সম্প্রতি এ বাজারে গিয়েছিলেন, তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তারা কীভাবে আক্রান্ত হলেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

এছাড়া, বেইজিংয়ের অন্য পাইকারি বাজারগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে শিনফাদি বাজারে গরু ও খাসির মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। শিনফাদি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাজারটিতে প্রতিদিন দেড় হাজার টন সামুদ্রিক খাদ্য, ১৮ হাজার টন শাক-সবজি এবং ২০ হাজার টন ফল বিক্রি হতো।

শুক্রবার (১২ জুন) বেইজিংয়ে শনাক্ত ছয়জন কোভিড-১৯ রোগীর প্রত্যেকেই সম্প্রতি শিনফাদি বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারটির ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।