যশোরে করোনাকালে মসলার দাম উর্ধ্বমূখি

মুর্শিদুল আজিম হিরু  : করোনার পথ্য হিসেবে প্রথমে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন মসলার মিশ্রণে গরম পানির ভাপ। যশোরের বাজারে মসলার দাম এত বেশি যা ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার একেবারে বাইরে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে মসলার দাম ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের জিম্মায় বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

এদিকে গত কয়েকদিনের মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম আরও কিছুটা কমেছে। বেড়েছে আলুর দাম। অপরিবর্তিত আছে ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ও চালের দাম। বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনার মহামারিতে দেশে দুঃসময় বইছে। বর্তমান সময়ে কারো ঠান্ডার সমস্যা দেখা দিলে তাকে বিভিন্ন মসলার মিশ্রণে গরম পানির ভাপ ও পান করতে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন। মসলার যে দাম তাতে গরম পানির সাথে মিশিয়ে ভাপ নেয়া সম্ভব হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে মসলার মধ্যে আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের ঊৎপাদন বেশি হয়। করোনার কারণে এ মসলাজাতীয় ফসলও বাজারে সরবরাহ অনেক কম। এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোল মরিচ, আদাসহ বেশ কিছু মসলা আমদানির উপর নির্ভশীল। গত কয়েক মাস এসব মসলার আমাদানি কমে যাওয়ায় আস্তে আস্তে দামও অনেক বেড়ে গেছে। সরবরাহ স্বভাবিক হলে দাম আবারও কমে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয় ২শ’টাকা থেকে ২শ’৫০ টাকা। তবে অধিকাংশ দোকানে ১শ’গ্রাম আদা বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। প্রতি ১শ’ গ্রাম এলাচ বিক্রি হয় ৩শ’৮০ টাকা থেকে ৪শ’৬০ টাকা। ৪৫ টাকা বিক্রি হয় প্রতি ১শ’গ্রাম দারুচিনি। প্রতি ১শ’ গ্রাম গোল মরিচ ও লবঙ্গ বিক্রি হয় ১শ’টাকা থেকে ১শ’২০ টাকা। ১শ’টাকা কেজি তেজপাতা হলেও ১শ’গ্রাম বিক্রি হয় ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা।

বাজারে দেশি-বিদেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা নি¤œমুখি। আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকা। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা। ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত পেঁয়াজ। ৭০ টাকা থেকে ১শ’২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় দেশি রসুন। প্রতি কেজি আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হয় ১শ’৪০টাকা। ২৬ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আলু। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। ৩শ’টাকা থেকে ৩শ’৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় শুকনো মরিচ।

বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমেছে। পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এর মধ্যে কেজিতে ৫ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৯০ টাকা। ৮০টাকা থেকে ৮২ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল। প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৬৮ টাকা থেকে ৭২ টাকা।

বাজারে ঊর্ধŸদামে অপরিবর্তিত আছে সবজির দাম। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কুমড়া। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৬০ টাকা। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধেঢ়স। প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয় ৬০ টাকা। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় উচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ৪০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ডাটা। প্রতি কেজি পুইশাক বিক্রি হয় ২০ টাকা। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাঁকরোল। প্রতি কেজি কুশি বিক্রি হয় ৪০ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরলতি। প্রতি কেজি কলা বিক্রি হয়  ৪০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পটল। প্রতি কেজি ধুন্দল বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজি। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙে। প্রতি কেজি কচুরমুখি বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজি।

বাজারে ডালের দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হয় ১শ’১০ টাকা কেজি। ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা । ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হয় ১শ’টাকা থেকে ১শ’১০ টাকা।

বাজারে চালের দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা। ৫৬ টাকা থেকে ৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় দেশি বাশমতি চাল। প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয় ৪৫ টাকা থেকে ৪৬ টাকা। ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাজললতা চাল। ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।

বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।  প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয় ১৬০ টাকা ২৫০ টাকা। ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয় মৃগেল মাছ। প্রতি কেজি চিলবারকার্প বিক্রি হয় ১২০ টাকা থেকে ১৪০টাকা কেজি। ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় তেলাপিয়া মাছ।