চৌগাছার পত্রিকা পরিবেশক শফি এখন পঙ্গু, সাহায্যের আবেদন

বাবুল আক্তার, চৌগাছা : যশোরের চৌগাছায় পত্রিকার হকার শফিকুল ইসলাম শফি (৬০) স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। বাড়িবাড়ি গিয়ে পত্রিকা বিক্রির আয়ের পর নির্ভরশীল হওয়া এই মানুষটি টাকার অভাবে এখন আর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এ বছর এসএসসি পাশ করা ছেলেটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই অবস্থায় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বৃত্তবান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানেিয়ছেন তিনি ও তার পারিবার।

উপজেলার হুদাফতেপুর গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি ছেলেবেলা থেকেই সচেতন মানুষ ছিলেন। ১৯৭১ সালে পিতা আফজাল হোসেনকে পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন থেকেই নেমে আসে এ পরিবারে দুঃখের ছায়া। চরম দুরাবস্থার মধ্যে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আর্থিক অনটনের কারণে সংসারের হাল ধরেন শফি।

৯০এর দশকে দৈনিক তথ্য পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করে সাংবাদিক জীবন শুরু করেন শফি। এর পর দৈনিক রানারে কাজ করেন বেশ কয়েক বছর। কিন্তু দারিদ্রতা তার কিছুতেই পিছু ছাড়েনি। ফলে উপজেলার পত্রিকা এজেন্ট মরহুম মাওলানা সাইদুল ইসলামের নিকট তিনি পত্রিকার হকার হিসেবে কাজে যোগ দেন। সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ, হাঁটবাজার, রাজনৈতিক অফিস, বাসাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে নিজ হাতে গ্রাহকের নিকট পত্রিকা পৌঁছে দিয়েছেন। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা উপজেলাতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনিই। অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন নতুন পত্রিকার পরিচিতি তৈরি করে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের আস্থাভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি।

স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুই শতক জমির উপরে বসবাস করেন তিনি। এ ছাড়া মাঠে তার কোন নিজস্ব জায়গা জমি নেই। ছেলে আরিফুজ্জামান গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপিঠ থেকে এবার এসএসসিতে এ গ্রেড পেয়ে পাশ করেছে। মেয়ে জান্নাতুল আক্তার আফরিন স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, লোকটা সারাজীবন পত্রিকার সাথে জড়িত। রোজার মাসে এক আতœীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে যান। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ডাক্তারের কাছে নিলে বিভিন্ন পরীক্ষা করে ডাক্তার বলেন, তার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। তারপর থেকে তাঁর বাম পাশের হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে গেছে। ঠিক মত কথাও বলতে পারছেন না। এ অবস্থায় আমরা যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুদিন ভর্তি রাখার পরে বাড়িতে নিয়ে আসি।

”এখন টাকার অভাবে ঠিকমত ওষুধপত্র কিনতে পারছিনা। অতিকষ্টে ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছি। একমাত্র ছেলে এবার এসএসসি পাশ করেছে। সে এখন মাঠে জোন খাটছে। সদ্য এসএসসি পাশ করা ছেলে অন্যের ক্ষেতে কাজ করে যে আয় করে তা দিয়ে কোনোরকম চলছে আমাদের সংসার। এ অবস্থায় আমার অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকারসহ সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের জন্য বিনীত অনুরোদ করছি।

প্রচুর আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম বলেন, পত্রিকায় হকারি করেছি কিন্তু জীবনে কোনো দিন কারো কাছে হাত পাতিনি। তবে এ পর্যায়ে এসে আর নিজেকে নিয়ে ভাবছি না। এখন ছেলেটার হয়তোবা আর লেখাপড়া হবে না। সে মাঠে জোন খাটছে। ছোট মেয়েটা আর স্ত্রীর কপালে কি আছে কে জানে। তাদের যদি একটা ব্যবস্থা করে যেতে পারতাম তাহলে মরেও শান্তি পেতাম।

শাফিকুলের পত্রিকার এজেন্ট মরহুম সাইদুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি শফি চাচা আব্বার সাথে পত্রিকার হকারি করেছেন। তিনি খুব হাসিখুশি থাকতেন। রোজার মধ্যে একদিন শুনলাম চাচা অসুস্থ। চলাফেরা করতে পারছেনা। তার বাসায় দেখতে গিয়ে কিছু টাকাও দিয়ে আসলাম। আসলে তার এখন অনেক টাকা দরকার । সে জন্য সকলে মিলে তার সহযোগিতা করা দরকার।

সিংহঝুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে সাহায্যের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোন তহবিল নেই। তবে এখন করোনার সময়ে তার জন্য আমি ত্রাণের ব্যবস্থা করতে পারি।