‘স্ত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় খুনের শিকার রিপন’

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বাঘারপাড়ার রিপন ড্রাইভার হত্যা মামলায় আটক বরকতুল্লাহ খান হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। স্ত্রীকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করার সময় মারপিটের শিকার হয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে বরকতুল্লাহ। সোমবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। বরকতুল্লাহ খান যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার মৃত মাহাফুজুর রহমানের ছেলে।

বরকতুল্লাহ খান জানিয়েছে, তিন মাস আগে বারান্দীপাড়ার পিংকিকে ভালো বেসে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তার প্রথম স্ত্রী-সন্তান থাকায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি পরিবারের লোকজন। যার ফলে বরতকতুল্লাহ তার স্ত্রী পিংকিকে নিয়ে নানা বাড়ি বাঘারপাড়ার ধলগ্রামে বসবাস করতো। রোববার সকালে একটি ভ্যানে নষ্ট মোটরসাইকেল নিয়ে মেরামতের জন্য বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আসে বরকতুল্লাহ ও তার স্ত্রী। স্ত্রীকে রাস্তার অপর পাশে ভ্যানের উপর বসিয়ে রেখে গ্যারেজে মোটরসাইকেলের কাজ করাচ্ছিল বরকতুল্লাহ। কিছু সময় পর তার স্ত্রী তাকে ডেকে পাশে থাকা দুইটি মাইক্রোর বাসের মধ্যে একজন ড্রাইভার ইভটিজিং করছে বলে জানায়। বরকতুল্লাহ ওই ড্রাইভারের কাছে যেয়ে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে। এরমধ্যে অপর মাইক্রোবাসের ড্রাইভার এসে তার উপরে উত্তেজিত হয়ে কথা বলে। এসময় দুইজনের ধাক্কাধাক্কিতে রিপন ড্রাইভার পড়ে যায়। রিপনের চিৎকারে আশেপাশের ড্রইভাররা এগিয়ে এসে তাকে মারপিট শুরু করে। স্ত্রী পিংকি ঠেকাতে গেলেও তাকেও মারপিট করা হয়। একপর্যায়ে পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করলে রিপনের বুকে লাগে। এরমধ্যে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে সে শুনেছে রিপন মারা গেছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, রিপন প্রাইভেটকার চালক। প্রতিদিনের মত রোববার সকালে বাড়ি থেকে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভাড়ার অপেক্ষায় বসেছিল। এসময় আসামির সাথে মোটরসাইকেল গ্যারেজের লোকজনের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে কিল ঘুষি দিতে আরম্ভ করে। আশপাশের চালকদের সাথে রিপনও ঘটনাস্থলে আসে। এরমধ্যে আসামির কাছে থাকা চাকু দিয়ে রিপনের বুকে আঘাত করে জখম করে। রিপনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনরোল হাসপালে নিযে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক বরকতুল্লাহ খানকে আসামি করে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটক বরকতুল্লাহ খানকে আদালতে সোপর্দ করলে জবানবন্দিতে হত্যা করেছে মর্মে জানিয়েছে।