যশোরে আক্রান্ত ৬শ ছাড়িয়েছে

বিল্লাল হোসেন : যশোরে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ২ জনসহ নতুন করে ৪৪ জনের কোভিড-১৯ নবেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ১ জন চিকিৎসক, ৫ জন সেবিকা, এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ১ জন কর্মকর্তা, আয়কর বিভাগের ১ জন কর্মকর্তা, ২ জন স্কুল শিক্ষিকা, ২ জন ব্যাংক কর্মকর্তা, ৬ জন পুলিশ ও ২ জন র‌্যাব সদস্য রয়েছেন। এই নিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৬শ’ ৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেন। সুস্থ হয়েছেন ১শ’ ৯২ জন। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জন।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা.রেহেনওয়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ১৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় মোট ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে নতুন রোগী ৪৪ জন। তাদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৩৫ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৭ জন ও ঝিকরগাছা উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন পুরাতন রোগী। তার নমুনার পরীক্ষার ফলাফল ফলোআপ পজেটিভ এসেছে। আরেক জনের পরিচয় মেলানো সম্ভব হয়নি। অন্য কোনো জেলার ফলাফল যশোরের তালিকায় চলে আসতে পারে। ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানান, চলতি সপ্তাহে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জন মারা গিয়েছিলেন। নমুনা পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। তিনি জানান, এরআগে সোমবার বিকেলে করোনা ডেডিকেটেড জিডিএল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যশোর উপশহর ই ব্লকের বাসিন্দা ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার লুৎফুর রহমান (৮০)।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যাওয়ার পর নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়া ২ জন হলেন যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাতিপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৪৮) ও বাঘারপাড়া উপজেলার হারান চন্দ্র (৭০)। তিনি আরো জানান, সিরাজুল ইসলাম ২৮ জুন ভর্তি হয়ে ওই দিনই মারা যান। আর হারান চন্দ্রকে ২৭ জুন দুুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।

যশোর সদর উপজেলা মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এ এন এম নাসিম ফেরদৌস জানান, সদর উপজেলায় আক্রান্ত ৩৫ জনের মধ্যে উপশহরের ৬ জন রয়েছেন। তার মধ্যে একই পরিবারে ৩ জন। তারা হলেন এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ফরিদপুরের উপপরিচালক , তার স্ত্রী ও ১ জন গৃহকর্মী। অপর ৩ জনের মধ্যে ১ জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার চিকিৎসক, বাকি ২ জন পুরুষ। পাইপপট্টি এলাকার ১ জন রয়েছেন। তিনি আয়কর বিভাগের ডেপুটি কমিশনার পদে কর্মরত। তালিকায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৩ জন সেবিকা। তাদের মধ্যে ১ জন ঘোপ নওয়াপাড়া রোড, ১ জন বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোড ও বেজপাড়া সাদেক দারোগা মোড়ে বসবাস করেন। পুলিশ লাইন এলাকায় বসবাসকারী ১ জন ডিএসবির ইনসপেক্টর, ৫ জন পুলিশ সদস্য , পুলিশ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের স্ত্রী, ২ জন র‌্যাব সদস্য, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ১ জন, সেন্ট্রাল রোডের ১ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ২ জন, ডিসি বাংলোতে দায়িত্বরত ১ জন সিএ, বেজপাড়া বিহারী কলোনী পাড়ায় বসবাসকারী মেটলাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানির ১ জন কর্মকর্তা, ল্যাবস্ক্যান হসপিটালের ১ জন মার্কেটিং অফিসার, চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার ১ জন স্কুল শিক্ষিকা , নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখহাটি আদর্শপাড়ার ১ জন ব্যাংকার ও ২ জন নারী, ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে বসবাসকারী ১ জন এনজিও কর্মকর্তা । তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্য করোনা ডেডিকেটেড জেডিএল হাসপাতালে ও বাকিরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে ১জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক রয়েছেন। এ ছাড়া পৌরসভার মোহনপুর গ্রামে আক্রান্ত ২ জনের মধ্যে ১ জন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত। অপরজন দিন মজুরের কাজ করেন। এ ছাড়া খানপুর রইউনিয়নের বালিযাডাঙ্গা গ্রামের ১ জন নারী, শ্যামকুর ইউনিয়নের লাউড়ী গ্রামের ১জন যুবক, জামলা গ্রামের ১জন পুরুষ ও দেবীদাসপুর গ্রামের ১ জন নারী। তারা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন তাদের বাড়ি লকডাউন করেছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্ত ২ জন হোম আেিসালেশনে রয়েছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জিনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৪৬ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ১৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫২ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১২১ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৬০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১৯২ জন। এ ছাড়া ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।