যশোরে করোনায় চিকিৎসক আইনজীবী  ব্যাংকার পুলিশসহ নতুন আক্রান্ত ৪৩

বিল্লাল হোসেন  : গত ২৪ ঘন্টায় যশোর জেলায় ২ জন চিকিৎসক, ২ জন আইনজীবী ৭ জন ব্যাংকার ও ৫ জন পুলিশ সদস্যসহ ৪৩ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৪২ জনের হিসাব হলেও পরে মাগুরার তালিকায় চলে যাওয়া ১ রোগী যোগ হয়। বুধবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার কর্তৃপক্ষ এই ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এই নিয়ে বুধবার পর্যন্ত  যশোর জেলায় ৬শ’ ৪৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেন।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা.রেহেনওয়াজ জানান, নতুন আক্রান্ত  ৪৩ জনের মধ্যে  যশোর সদর উপজেলায় ২৪ জন, শার্শা উপজেলায় ৪ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬ জন, চৌগাছা উপজেলায় ৩ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন। তিনি আরো জানান, করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে বুধবার যশোর জেলার আরও ১৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য উপজেলার মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রন) আদনান ইমতিয়াজ জানান, সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন যশোর রাঙ্গামাটি এলাকার বাসিন্দা ও জনতা ব্যাংক উপশহর শাখার ১ জন নারী কর্মকর্তা ,ঝালাইপট্টির ১ জন ব্যবসায়ী, ঘোপ জেলরোডের বাসিন্দা ১ জন আইনজীবি, পালবাড়ি এলাকায় ২ জনের মধ্যে ১ জন  মণিরামপুরের বিএডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি পরিচালক, অপরজন পুরুষ,  পুরাতন কসবার ২ জনের মধ্যে ১ জন পুলিশের এসআই, পুলিশ লাইন এলাকার ১ জন পুলিশ সদস্য,  খড়কি হাজামপাড়ার ১ জন ব্যাংকার, কারবালা এলাকায় বসবাসকারী ১ জন পিবিআই ইনসপেক্টর, ভোলা ট্যাংক রোডের ২ জনের মধ্যে ১ জন আইনজীবি অপরজন পুরিশের এসআই, বেজপাড়া টিকি ক্লিনিক এলাকার ১ জন পুরুষ, নীলগঞ্জ তাতিপাড়ার ১ জন পুরুষ, নীলগঞ্জ সুপারিবাগান এলাকায় স্বামী স্ত্রী, ঝুমঝুমপুর এলাকার ১ জন পুরুষ, বারীনগর সাতমাইল এলাকার ১ জন পুরুষ ও শেখহাটি এলাকায় বসবাসকারী ডার্চ বাংলা ব্যাংক মাগুরা শাখার ১ জন কর্মকর্তা।  তিনি আরো জানান, এছাড়া ৩ জনের পরিচয় মেলানো সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।  এরমধ্যে ১ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন ব্যাংক কর্মকর্তা করোনা ডেডিকেটেড জিডিএল হাসপাতালে ও বকিরা হোমআইসোলেশনে চিতিৎসাধীন রয়েছেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ জন চিকিৎসক ও ১ জন পরিছন্নকর্মঅ রয়েছেন। বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জনের বাড়ি  বেনাপোল ভবের বেড় অপরজনের বাড়ি কাগজপুকুর এলাকায়। তাদের বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তারা হোমআইসোলেশনে চিকিৎসাধীন।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আক্রান্ত ৬ জনের মধ্যে ২ জন সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার কর্মকর্তা , ১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বাকি ৩ জন সাধারণ রোগী। তারা সবাই নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি জানান , আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে

১ জন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত নারী চিকিৎসকের স্বামী। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। কিন্তু বসবাস করেন চৌগাছা উপজেলায়।বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন চৌগাছা চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক অপরজন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের আয়া। সকলেই হোমআইসোলেশনে রয়েছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মাহমুদুর রহমান রিজভী জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্ত ৬ জনের  ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। এরমধ্যে বোকলা এলাকার ১ জন, রাজঘাটের ১ জন , বুইকারার ১ জন, শ্রীধরপুরের ১ জন ও কাপাসেটি এলাকার স্বামী স্ত্রী ২ জন। তারা হোম আেিসালেশনে রয়েছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জিনোম সেন্টারে যশোর জেলার ১১০ নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার  ৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। এছাড়া খুলনার ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সবমিলিয়ে ১৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫০ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১১৯ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, বুধবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৬৪৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১৯২ জন। এছাড়া ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।