করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগী  ছাড়ালো দেড় লাখ

বিডিনিউজ : বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর ১১৭তম দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখন রয়েছে ১৮ নম্বরে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪ হাজার ১৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৮ জন মারা গেছেন গত এক দিনে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯২৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

আইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাব দিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪ হাজার ৩৩৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৬৬ হাজার ৪৪২ জনে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে।

প্রথম রোগী শনাক্তের ২৮দিন পর ৬ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১৪ এপ্রিল এক হাজার ছাড়ায় শনাক্ত রোগী। এরপর ৪ মে ১০ হাজার, ১৫ মে ২০ হাজার এবং ২ জুন পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়েছিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা।

এরপর মাত্র ১৬ দিনে গত ১৮ জুন দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বৃহস্পতিবার তা দেড় লাখে পৌঁছাতে সময় লাগল ১৪ দিন।

বাংলাদেশে ১৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজারের ঘর পেরিয়ে যায়।

এরপর ১২ দিনেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় গত ২২ জুন। এখন তা পৌঁছে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালি অনুযায়ী, সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৪ জনের।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। ৩৩ জন হাসপাতালে এবং ৫ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

এই ৩৮ জনের মধ্যে ২ জনের বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৭ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৮ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

তাদের মধ্যে ১১ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন রংপুর বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের এবং ২ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

নাসিমা সুলতানা জানান, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হওয়ায় দেশে এখন মোট ৭০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।