যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ১৩ জনের মধ্যে বয়স্ক ১১

বিল্লাল হোসেন : যশোরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন হলেন বয়স্ক। মৃতদের সবাই হলেন পুরুষ। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বয়স্কদের শরীরে অন্যান্য রোগ থাকার কারণে করোনায় সহজেই দুর্বল করে ফেলেন। যে কারণে তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর জেলায় এই পর্যন্ত  করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে যুবক বয়সের রয়েছেন ২ জন। তারা হলেন, যশোর শহরের শহরের চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডের আনোয়ারা ফার্মেসির মালিক ও কাজীপাড়ার বাসিন্দা আনিসুর রহমানের ছেলে শামিমুর রহমান (৩৮) ও সদর উপজেলার রুপদিয়ার চাউলিয়া গ্রামের মৃত নাসির গাজীর ছেলে আব্দুল খালেক গাজী (৩৪)। এছাড়া বয়স্ক ১১ জন হলেন, যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাতিপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৬৫), উপশহর ই ব্লকের বাসিন্দা ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার লুৎফুর রহমান (৮০), চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের সরদার পাড়ার আব্দুল ওহাব আলী সরদার (৭০), বাঘারপাড়া উপজেলার হারান চন্দ্র (৭০), বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোমিনুর রহমান (৫০), শার্শা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের জাকির হোসেন (৬০), হরিচন্দ্রপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী (৫৫), অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার শংকপরপাশার বাসিন্দা বিশিষ্ট শিল্পপতি আমির হোসেন (৭৫), নওয়াপাড়া পৌর এলাকার আনিসুর রহমান (৫৫), গুয়াখোলা গ্রামের সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন (৫৩) ও সিদ্ধিপাশা গ্রামের বিমলেন্দু চক্রবর্তী (৬৪)।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৬ জুন প্রথম মারা যান নওয়াপাড়ার শিল্পপতি আমির হোসেন। আর ১২ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলো। তিনি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, আমার জানা মতে করোনায় যশোরে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শার্শার ইয়াকুব আলীর মৃত্যুর তথ্য আমাদের হিসাবে নেই। তিনি আরো জানান, যদিও যশোরে আক্রান্তের তালিকায় তরুণ ও যুবকদের সংখ্যা বেশি। তারপরেও মৃতের সংখ্যায় খুবই কম। তাদের তুলনায় বয়স্কদের সংখ্যা কম থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তি।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা, শেখ আবু শাহীন জানান, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষ আগে থেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসে সমস্যা, হজমের সমস্যায় ভুগতে থাকেন সে সব মানুষের করোনায় ধরলে বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়া যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন বেশিরভাগেরই  আগে থেকে হৃদরোগের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসের হার্টে সমস্যা ও ছিল। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম ছিলো। কিন্তু তরুণ ও যুবকদের শরীরে অন্য কোন গুরুতর রোগ না থাকা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় করোনা তাদের দুর্বল করতে পারে না। যুবক ২ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি জানান, শামিমুর রহমান ও খালেক গাজী আগে থেকেই অ্যাজমা, ডায়াবেটিস  ও হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিলো। ফলে করোনায় তাদের কাহিল করে ফেলে। এক প্রকার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সব বয়সের মানুষের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।