যশোর মাছ বাজারের মুন্না হত্যা মামলায় আটক শিমুলের আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক  : যশোর শহরের বড়বাজার মাছবাজারের আড়ৎ কর্মচারী শেখ ইমরান হোসেন মুন্না হত্যা মামলার আসামি শিমুলকে গত বুধবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে শিমুল আদালতকে জানায়, সে শহরের কাঠেরপুল এলাকার জনৈক শাকিলের তুষঘরে শ্রমিকের কাজ করে। একই মামলার আসামি পলাশ ও হৃদয় তার বন্ধু। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পলাশ ও হৃদয়ের সাথে রাকিব নামে একজন তার বাড়িতে আসে। এ সময় রাকিব তাকে ডেকে বলে যে, মুন্না তাকে মেরেছে। এরপর সেসহ পলাশ, রাকিব ও হৃদয় মাছবাজারে মেম্বার (পৌর কাউন্সিলর) রাজ ভাইয়ের অফিসে যায়। কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে তারা মাছবাজারের ভেতর মুরগিপট্টির কাছে গেলে সেখানে মুন্নার সাথে তাদের দেখা হয়ে যায়। তাদের দেখে মুন্না রাকিবকে বলে,‘তুই ছেলেদের নিয়ে এসেছিস আমাকে মারার জন্য ?’ এ কথা বলার পর মুন্না রাকিবের ঘাড়ে থাবা মারেন। এ সময় হৃদয় মুন্নার উরুতে চাকু বসিয়ে দেয়। পলাশও চাকু দিয়ে মুন্নার উরুতে আঘাত করে। এরপর সে (শিমুল) রাকিবের কাছ থেকে চাকু নিয়ে মুন্নার পা ও হাতে আঘাত করে। এ সময় মুন্না মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনার পর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে  সে শুনেছে মুন্না মারা গেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ি পুলিশের এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, মুন্না হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিমুল। সে শহরের লোনঅফিসপাড়ার দুলালের ছেলে। তবে তাদের আসল বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শশা গ্রামে। মুন্নাকে হত্যার পর শিমুল ঢাকায় পালিয়ে গিয়েছিলো। ৩ দিন আগে সে ঢাকা থেকে যশোরে এসেছে। গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি তাকে যশোরের উপশহর বি-ব্লক এলাকা থেকে আটক করেন। বৃহস্পতিবার শিমুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাছবাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন আড়ৎ কর্মচারী শেখ ইমরান হোসেন মুন্না। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার চাচা শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু ৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলো, শেখহাটির পলাশ, লোন অফিসপাড়ার শিমুল, রাকিব ও কাঠেরপুলের ছোট হৃদয়।