সময় বাড়ানোর পর যশোরের বাজার চলছে যেভাবে

মিরাজুল কবীর টিটো : দোকান খোলা রাখার সময় তিন ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হলেও যশোরের বাজারে বেচাকেনা তেমন বাড়েনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতোই বেচাকেনা করছেন বলে জানালেন শহরের এইচএমএম রোডের পোশাক ও জুতা ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিন না গেলে বেচাকেনার অবস্থা এখন বোঝা যাবে না। তবে সময় বাড়ানোতে ব্যবসায়ীরা খুশি।

সূত্র জানায় করোনা ভাইরাসের কারনে ২৮ মে যশোরের সকল শপিংমল,দোকানপাট বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে করোনা সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভা করে কয়েকটি শর্তে ১১ মে থেকে শপিংমল,দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়। সেই শর্ত মেনে হ্যান্ডওয়াশ.স্যানেটাইজারের ব্যবস্থা করে ব্যবসা করতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায়  করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ১৯ মে আবারো সকল কিছু  বন্ধ করে দেয়া হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঈদুল ফিতরের একদিন পর ২৫ মে থেকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত শপিংমল,দোকান খুলে ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ১ জুলাই বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শপিংমল, সকল দোকান পাট খোলার সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু দোকান খোলা রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়ালেও বেচাকেনায় কোন প্রভাব পড়েনি। আগের মতোই বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানালেন এইচএমএম রোডের পোশাক ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে , সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজারে মানুষের ভিড় কম থাকলেও কাপড়ের দোকানে ক্রেতার বেশ উপস্থিতি। তবে বিকেলে বাজারের গলিতে মানুষের বেশি ভিড় থাকলেও কাপড় ও জুতার দোকানে তেমন বেচাকেনা হয়নি।

একতা ক্লোথ স্টোরের মালিক দুলু জানান, দোকান খোলা রাখার সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে ৬টা পর্যন্ত করা উচিৎ। তাহলে মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে। তিন ঘন্টা বাড়ালেও তেমন ক্রেতা আসছে না। বেচাকেনা চলছে আগের মতোই। মডার্ণ ক্লোথ স্টোরের ম্যানেজার হারান মল্লিক জানান,  দুইদিন হয়েছে দোকান খোলার সময় তিন ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে। তাতে বেচাকেনা একটু বেড়েছে। আর কয়েকদিন যাওয়ার পর মানুষ এটা জানলে বেচাকেনা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝিলিক ক্লথ স্টোরের মালিক বজলুর রহমান জানান দোকান খোলায় ব্যবসায়ীদের উপকার হবে। ঈদের পরে বেচাকেনা ভাল হচ্ছিল। করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনা কমে গেছে। মানুষ বাইরে কম বের হওয়ার কারনে বেচাকেনা কমে গেছে। দুই চার দিন না গেলে বেচাকেনার ভাব বোঝা যাবেনা। একই কথা জানান যশোর ছিট কাপড় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবু হোসেন । তিনি বলেন করোনা ভাইরাসের কারনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাজারে এসে কেনাকাটা করছে না। এ কারনে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। কর্মচারিদের বেতন,বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারপরও এ পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদের ব্যবসা করতে হবে। এদিন ছিট কাপড় কিনতে আসেন এরিন জামান, সুমি খাতুনসহ আরো কয়েকজন ক্রেতা। তারা জানান বাড়ি পরার পোশাক বানানো প্রয়োজন। একারনে ছিট কাপড় কিনতে এসেছি। তানা হলে করোনা পরিস্থিতিতে বাজারে আসতাম না।