‘স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে খুন হয়েছে দেবহাটার ইজিবাইক চালক মনিরুল’

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেবহাটায় চাঞ্চল্যকর ইজিবাইক চালক মনিরুল হত্যার ঘটনায় আদালতে ২ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের কাছে নিহত ইজিবাইক চালক মনিরুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও রাবেয়ার প্রেমিক উপজেলার কামটা গ্রামের ওহাব সরদারের ছেলে সাইদুর রহমান রাজু পৃথকভাবে ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দ দেন। মনিরুলের স্ত্রী রাবেয়ার সাথে রাজুর অবৈধ সম্পর্কের কারণে তারা মনিরুলকে হত্যা করেছে বলে তারা আদালতকে জানিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র জানান, মনিরুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, মনিরুলের বন্ধু রাজু তাদের বাড়িতে আসা যাওয়ার সূত্র ধরে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হলে রাজু রাবেয়াকে বিয়ে করার কথা বলে। কিন্তু রাবেয়া তার স্বামী থাকতে তার সাথে বিয়ে করা সম্ভব নয় জানায়। গত ২৫ জুন ভোরে সাংসারিক বিরোধে মনিরুল রাবেয়াকে মারপিট করলে সকাল ১০ টার দিকে রাবেয়া রাজুর কাছে গাজীরহাট বাজরে যেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।  এতে রাজু প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ঐদিনই মনিরুলকে হত্যা করার কথা জানায়। পরে তাদের পরিকল্পনা মতে রাজু সন্ধ্যার সময় রাবেয়ার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে মনিরুলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে দেবহাটায় যেয়ে মনিরুলকে হত্যা করে।

ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র আরো জানান, এছাড়া সাইদুর রহমান রাজু তার ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলেছে, রমজান নামে একজনকে সাথে নিয়ে সে দেবহাটাতে আসে। রমজান মনিরুলের ইজিবাইকে যায় আর রাজু মোটরসাইকেলে করে দেবহাটায় যেয়ে বৌদির দোকানের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। আগে থেকে রাজু দড়ি কিনে কাছে রেখে দেয়। পরে তারা এক হয়ে মনিরুলের ইজিবাইকে সখিপুরের দিকে আসার সময় সখিপুরের চাতালের কাছে এসে পিছন দিক থেকে দড়ির ফাঁস দিয়ে ২ জনে মিলে জোরে টান দেয়। এতে মনিরুল হাত পা ছোটাছুটি করতে করতে একপর্যায়ে হাত পা নিথর হয়ে পড়লে রাজু ইজিবাইক থেকে নেমে সখিপুরের দিকে পায়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি ব্যাটারি ভ্যানে করে সখিপুরে নিয়ে যায়। সখিপুর মোড় থেকে সে মোটরসাইকেলে গাজীরহাট চলে যায়। যাওয়ার সময় রাজু রমজানকে বলে যায়, যেহেতু এলাকাটা তার তাই লোকজন তাকে চিনে ফেলতে পারে। রমজান যা পারে তাই করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার কথা বলে। পরে রমজান মনিরুলের লাশটা রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র আরো জানান, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। যতটুকু রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে তা থেকে হত্যাটি প্রেমঘটিত এবং পূর্ব পরিকল্পিত বলে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ২৬ জুন ভোরে দেবহাটা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের ইসমাঈল গাজীর ছেলে ইজিবাইক চালক মনিরুল ইসলাম (৩৩) এর লাশ উদ্ধার করে দেবহাটা থানা পুলিশ।