যশোরে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ওসি অধ্যক্ষসহ করোনায় নতুন আক্রান্ত ৩৮


বিল্লাল হোসেন:
গত ২৪ ঘন্টায় যশোরে নতুন করে ৩৮ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন), আমদাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ১ জন জ্যেষ্ঠ সেবিকা, যশোর পল্লী বিদ্যুত সমিতির এডিএম ও পুরাতন কসবা ফাঁড়ির ১ জন এসআই ।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, জেলার ১২৭ নমুনা পরীক্ষায় ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে শুক্রবার ফলাফল প্রকাশ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ২১ জন, শার্শা উপজেলার ৬ জন, ঝিকরগাছা উপজেলার ৪ জন, কেশবপুর উপজেলার ১ জন ও অভয়নগর উপজেলার ৬ জন। ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানান, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে শুক্রবার যশোর জেলার আরও ৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য উপজেলার মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রন) ডা. এ এন এম নাসিম ফেরদৌস জানান, সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ার বাসিন্দা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল (৪৫) , তার স্ত্রী টগর মাহমুদ (৪১), যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) সুমন কুমার ভক্ত (৩৭), টালিখোলার বসবাসকারী পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কাইয়ূম মুন্সি (৫২), যশোর উপশহর বি-ব্লকে বসবাসকারী আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ উজীর আলী (৫১), ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের জোড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ সেবিকা রোকসানা আক্তার (৫৭), যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর এডিএম রমজান আলী (৩৫), হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসকারী ১ জন নারী (২২), রেলরোড পশ্চিম পাড়ার ১ জন ব্যবসায়ী (৬২), বেজপাড়া বনানী রোডের ১ জন কাঠ ব্যবসায়ী (৫২) , নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার ১ জন ঠিকাদার (৫০), তার স্ত্রী (৪০), পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ায় বসবাসকারী ডিএসবির ১ জন সদস্য, কাজীপাড়ার বাসিন্দা টাইলসের দোকানের ১ জন কর্মচারী (৩৭), রেলরোড ফুড গোডাউন এলাকায় বসবাসকারী ১ জন আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী (৪৮), তার স্ত্রী ১ জন ব্যাংকার (৪৫) ও ছেলে শিক্ষার্থী (২০), নরেন্দ্রপুর এলাকার ১ জন পল্লী চিকিৎসক (৩৯) ও ঝুমঝুমপুর এলাকার ১ জন কিশোর (১৫) । এ ছাড়া রিয়াজুল ইসলাম (২৫) আল্পনা সাহা (৫২) নামে ২ জনের হদিস পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনের নম্বরও বন্ধ রয়েছে। আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, আক্রান্ত ৬ জনই পুরুষ। এরমধ্যে ৪ জন যুবক। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে। অপর ২ জন বয়স্ক। ১ জনের বয়স (৬৯) অপরজনের (৫৫) তারা হোম আইসোলেশনে আছেন । উপজেলা প্রশাসন তাদের বাড়ি লকডাউন করেছে।
ঝিকরগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.হাবিবুর রহমান জানান, আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে একই পরিবারে রয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন উপজেলা বিআরডিবির জীবীকায়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা (৩২), তার স্বামী (৩৫) ও শিশু কণ্যা (৫)। অপরজন হলেন নারী (৪১)। তার বাড়ি পৌরসভার পুরন্দপুর গ্রামে। তিনি সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখায় কর্মরত। তারা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সকলের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রহমান রিজভী জানিয়েছেন, আক্রান্ত ৬ জনের মধ্যে গুয়াখোলার একই পরিবারের ৩ জন রয়েছেন। এরমধ্যে ১ জন পুরুষ (৬৫), অপর দুইজন হলেন নারী। তাদের বয়স (৫৫) ও (২৩) বছর। এ ছাড়া বুইকারা গ্রামের ২ জন পুরুষ । ১ জনের বয়স (৩৬) ও অপরজনের (৪৮)। ৫ জনই হোম আইসোলেশনে আছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এ ছাড়া শায়েস্তা খা (৫০) নামে আক্রান্ত ব্যক্তির হদিস পাওয়া যায়নি। তার সন্ধান মেলানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, কেশবপুরে আক্রান্ত
১ জন কেশবপুর অফিসপাড়ার বাসিন্দা। তার বয়স (৩২)। বাড়ি লকডাউনের পর তাকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৩৮ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১ জন ও সাতক্ষীরা জেলার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ২৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭২ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৯৪ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা.শেখ আবু শাহীন জানান, শুক্রবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৭৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ২৪০ জন। মারা গেছেন ১২ জন।