লিবিয়ায় পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায় মামলায় নারী আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝিকরগাছার দুই যুবককে লিবিয়ায় পাঠিয়ে পাচারকারীদের হাতে আটক রেখে মুক্তিপণ আদায় প্রতারণা মামলার আসামি জাহানারা বেগমকে আটক করেছে ঝিকরগাছা পুলিশ। উপজেলার মাঠশিয়া গ্রামের সিরাজ মল্লিক বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার ঝিকরগাছা থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় আটক জাহানারাসহ তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার মাঠশিয়া গ্রামের ফজলে সরদার তার ছেলে ফারুক সরদার। আটক জাহানারা বেগম ফারুক সরদারের স্ত্রী।
বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামি ফারুক সরদার লিবিয়াতে চাকরি করেন। বাদীর ছেলে আরাফাত হোসেন নুরুন্নবী এবং ভাগ্নে রুবেল হোসেনকে লিবিয়ায় বেশি বেতনে চাকরি দিতে পারবে বলে জানান ফারুকের স্ত্রী। তবে এই চাকরি দিতে দুইজনের বাবদ মোট ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা সেখানে পৌছানোর পর দিতে হবে। তাদের কথায় রাজি হয়ে যায় বাদী সিরাজ মল্লিক ও তার ভগ্নিপতি জমসেদ মিস্ত্রি। গত বছরের ১৮ মে বাড়ি থেকে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। ২০ মে আরাফাত হোসেন নুরুন্নবী এবং ২৪ মে রুবেল ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছে যায়। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে পৌঁছানোর কথা জানানোর পর ফারুক হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম এবং তার পিতা ফজলে সরদারের হাতে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। ২৭ দিন পর আবার তারা দুইজন লিবিয়া থেকে মোবাইলে জানায় তাদের দুইজনকে সেখানকার মাফিয়ারা আটক করে রেখেছে। তাদের মুক্ত করতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়া লাগবে। বিষয়টি ফারুকের স্ত্রী ও পিতার মাধ্যমে ফারুককে জানানোর পর তারা বিষয়টি টাকা ছাড়া সমাধান করতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। এদিকে তারা দুইজনে লিবিয়া থেকে মোবাইলের ইমোতে মারপিটের চিহ্ন দেখাতে থাকে পরিবারকে। ফলে বাধ্য হয়ে আসামিদেরকে ব্যাংকের চেক, বিকাশে এবং নগদে মোট ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬০ টাকা দেয়া হয়। সর্বমোট তাদের কাছে মোট ১৭ লাখ ৫ হাজার ৬৬০ টাকা দেয়া হয়েছে। এরপর মাফিয়াদের কাছ থেকে মুক্ত করিয়ে আরাফাত হোসেন নুরুন্নবী ও রুবেলের বেতনের টাকা ফারুক নিজেই ভোগ করছেন। ফলে তাদের নিজের হেফাজতে রেখে কাজ করিয়ে বেতন নেয়া এবং বাড়িতে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ফারুককে এবং তার স্ত্রী ও পিতাকে জানিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে ২ জুলাই ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এই মামলায় আসামি জাহানারাকে শুক্রবার ভোরে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।