এ কেমন শত্রুতা !

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ধার দেনার মাধ্যমে আড়াই বিঘা জমিতে পেপে চাষ করেছিলাম। ক্ষেতে পেপেও ধরেছিলেন বেশ। সপ্তাহ খানেক পরেই পেপে বিক্রি করে ধার দেনা পরিশোধ করতে পারতাম। কিন্ত ধরন্ত ৩ শতাধিক পেপে গাছ শুক্রবার গভীর রাতে কে বা কারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এখন কি করে সংসার চালাবো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বর্গাচাষী মাজেদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মল্লিক মন্ডলের ছেলে।

কৃষক মাজেদুল ইসলাম জানান, নিজেদের তেমন একটা জায়গা জমি না থাকায় বেথুলী গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুল জলিলের আড়াই বিঘা জমি প্রতিবিঘা বছরে ১০ হাজার টাকায় ৩ বছরের চুক্তিতে বর্গা নিয়ে পেপে চাষ করেছি। নিজের সন্তানের মত লালন করে বড় করেছি। পরিচর্যার করতে এ পর্যন্ত আরও লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্ত ধরন্ত সে পেপে গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে। একটি পেপে ক্ষেত থেকে কমপক্ষে ৩ বছর পেপে পাওয়া যায়। এ ক্ষেত থেকে ৩ বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা আসতো কিন্ত এখন আমার সব শেষ। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, এ কেমন শত্রুতা ?

ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, শনিবার সকালে খবর পেয়ে আমি মাজেদুলের ক্ষেতে গিয়েছিলাম। দেখলাম ধরন্ত গাছগুলো মাটিতে পড়ে আছে। আর পাশেই বসে অঝোরে চোখের পানি ফেলছে কৃষক মাজেদুল। তিনি আরও বলেন,  লোকটা কঠোর পরিশ্রমী। খুব কষ্ট করে মাঠে পরের জমি বর্গা নিয়ে সবজির চাষ করে থাকে। কিন্ত রাতের আঁধারে মানুষ শত্রুতা করে প্রায় ৩ শতাধিক ধরন্ত পেপে গাছ কেটে দিয়েছে। যে ক্ষেতটি কেটেছে তারতো কোনো লাভ হয়নি। কিন্ত কৃষক মাজেদুলের বড্ড ক্ষতি হয়ে গেছে। মাজেদুলের কোন শত্রু থাকতে পারে কিন্ত ভরা ক্ষেতের গাছ কেটে দেয়া এ কেমন শত্রুতা ?

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহা. মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, এ ব্যাপারে থানায় এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। তিনি আরও বলেন, কৃষকের ভরা ক্ষেত কেটে দেয়ার মত ক্ষতি পুশিয়ে উঠার নয়। আমি এখনই পুলিশ পাঠাচ্ছি।