খুমেক ল্যাবে নমুনার জট, যশোরের ফলাফল আসতে পারে ১ সপ্তাহ পর !

বিল্লাল হোসেন: যশোর জেলায় কোভিড -১৯ নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৩৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। এরমধ্যে  শনিবার মাত্র ৫ জনের নমনা পরীক্ষার ফলাফল ল্যাব থেকে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার মাত্র ৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছে যশোর সিভিল সার্জন অফিস। তাতে ৩ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। শনিবার যশোর জেলার আর ও ১৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য খুমেক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।  সিভিল সার্জন জানিয়েছেন,  বর্তমানে খুলনার ল্যাবে নমুনার জট সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের আগে ফলাফল পাবো কিনা সন্দেহ রয়েছে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, গত ২ জুলাই  বৃহস্পতিবার ২৭৯ ও ৩ জুলাই শুক্রবার ৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য খুমেক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিলো। এরমধ্যে মাত্র ৫ জনের ফলাফল এসেছে। শুক্রবার পাঠানো হয়েছে আরও ১৩৪ জনের নমুনা।

ল্যাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নতিকরণ, পিসি আর মেশিনের শক্তির পরিমাপ যাচাই ও জীবাণুমুক্তের জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যবিপ্রবি (যবিপ্রবি) ল্যাব আপাতত বন্ধ থাকার কারণে খুলনায় নমুনা  পাঠানো হচ্ছে। যবিপ্রবি ল্যাব চালু হলে ফের সেখানে নমুনা পাঠানো শুরু করবো। যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য উপজেলার মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রন)  ডা. এ এন এম নাসিম ফেরদৌস জানান, সদর উপজেলায় আক্রান্ত যুবকের (৪৫) বাড়ি যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায়। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার। তিনি হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রহমান রিজভী জানিয়েছেন, আক্রান্ত ২  জনের বাড়ি নওয়াপাড়া পৌর এলাকায়। এরমধ্যে ১ জন শিক্ষক ও অপরজন ব্যবসায়ী। দুজনই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

যশোরে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, শুক্রবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৭৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ২৪০ জন। মারা গেছেন ১২ জন। সিভিল সার্জন জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি খুুমেক পিসিআর ল্যাবে নমুনা জট সৃষ্টি হয়েছে। এখনো তারা খুলনা জেলার নমুনা পরীক্ষার কাজ করছেন। খুলনার জমা পড়া নমুনা পরীক্ষার কাজ শেষ হতে এখনো কয়েকদিন সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে যশোর জেলা থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সহসা পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছেনা। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসতে ১ সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ও লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, যবিপ্রবি ল্যাব চালু হওয়ার পর

এই সমস্যা কেটে যাবে। যবিপ্রবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর, শুক্রবার থেকে ল্যাবের মধ্যে বৈদ্যুতিক উন্নতিকরণ ব্যবস্থার কাজ শুরু হয়েছে। রোববারের মধ্যে ল্যাব ফের প্রস্তত হয়ে যাবে। আগামী সোমবার থেকে যশোরসহ অন্যান্য জেলার নমুনা জমা নেয়া হবে। ওই রাত থেকেই শুরু করা হবে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খুমেক উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানিয়েছেন, ল্যাবে নমুনার জট পড়েছে এটা সত্য। তারপরেও নিয়মিত পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। যত দ্রুত সম্ভব জমা পড়া নমুনাগুলো শেষ করা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।