চিরতরে হারিয়ে গেল ‘সুদর্শন জুটি’ মাবি-চন্দনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চিরতরে হারিয়ে গেল এক সময়ের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদর্শন জুটি নামে খ্যাত ‘ক্যাম্পাসের জুটি’ যশোরের মাবি-চন্দনা। পুরো নাম মাবিউর রহমান মাবি ও রোজেলিন ইহসান চন্দনা। মাবি অনেক আগেই নিজের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আর চন্দনা অসুখে গত ২৯ জুন পরপারে পাড়ি জমান।

রোজেলিন ইহসান চন্দনা (৫৪) ছিলেন যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

তার মৃত্যু প্রথমে অনেকেই জানতে পারেননি। তবে ফেসবুকের কল্যাণে পরে তার স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা জানতে পেরেছেন। গত ২৯ জুন বিকেল সাড়ে ৪টায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চন্দনা ইন্তেকাল করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ব্যাচ-৩২ (সেশন ১৯৮৪-৮৫)-এর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শারীরিকভাবে অসুস্থতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ভেলোরে চিকিৎসাধীন ছিলেন চন্দনা।

চন্দনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ড. একেএম আখতারুল কবীর ফেসবুকে লিখেছেন, আমাদের এই বন্ধুটির স্বামী আমাদের একই সেশনের ইতিহাস বিভাগের সুপ্রিয় বন্ধু মাবিউর রহমান মাবি (যশোর) কয়েক বছর আগে নিজ মোটরসাইকেল চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ, জনপ্রিয় ও সুদর্শন জুটি হিসাবে তাদের দুজনকে (মাবি-চন্দনা) বলা হতো। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ”সাপ্তাহিক ছুটি” পত্রিকার একজন সাংবাদিক হিসাবে “ক্যাম্পাসের জুটি” শিরোনামে আমি ওদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করেছিলাম। তখন থেকেই এই জুটির সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমার আগে আমাদেরই বন্ধু জাহিদ চৌধুরী (দৈনিক বাংলা/দৈনিক জনতা)-তে একই রকম ফিচার প্রকাশ করেছিল। এই তো গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে কয়েকবার চন্দনার সাথে মোবাইলে কথা হয়। কথা দিয়েছিলাম আমি বাড়িতে গেলে ওর সাথে দেখা করে আসবো। আমি যশোরে গিয়েছিলাম ঠিকই । শহরে প্রায় আট ঘন্টা ছিলাম। কিন্তু অন্য বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে যেয়ে ওর সাথে দেখা করার সময় বের করা সম্ভব হয়নি। আর কথা রাখা হলো না। আর দেখাও হলো না। আমাদের এই বন্ধু জুটির অর্জন নামে একটি ছেলে আছে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে।

চন্দনার ছেলে মুসফিক রোহান অজুন লিখেছে, আমি অর্জন, আমার মা যে আর নেই।

আমার মা কখনো যদি আপনাদের কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে তাকে মাফ করে দিয়েন? আমার মা একজন অনেক ভাল মানুষ ছিল। তার যদি কারও কাছে কোনো দেনা পাওয়া থাকে আমাকে জানাবেন। আমি তা পরিশোধ করে দিব। কেউ তার উপর রাগ রেখেন না।

আর আমার মায়ের বন্ধুরা যারা আছেন মা আপনাদেরকে অনেক ভালবাসত। আপনাদের সবার গল্প সে তার শেষ দিকে খুব করত। আমার বাবা-মা জট-৩২ ব্যাচ। আপনারা সবাই আমার বাবা-মার জন্যে দুয়া করবেন।

নাজমুন নাহার নাজু লিখেছেন, সদা হাস্যোজ্বল বান্ধবী ছিল। একই হল রোকেয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ পাশাপাশি রুমে থাকতাম। স্মৃতি গুলো বারবার ভাবিয়ে তুলছে। অর্জন এর জন্য দোয়া রইল। আল্লাহ বাবা অর্জনকে শক্তি দিও শোক সইবার। আল্লাহ বেহেস্ত নসীব দান করুন অর্জন এর বাবা মায়ের জন্য। আমিন।

অনেকেই ফেসবুকে চন্দনার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।