খুলনায় চারটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেয়া হবে

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় চারটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হবে। খুলনা সদর হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৪২টি শয্যা খুব দ্রুততার সাথে প্রস্তুত করে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা উপযোগী করে তোলা হবে। খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা শনাক্ত পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে।  সিটি কর্পোরেশনের খালিশপুরে লাল হাসপাতাল এবং তালতলা হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেওয়া যায় কিনা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। খুলনার কোভিড হাসপাতালে দ্রুত হাইফ্লো ন্যাজালক্যানোলা স্থাপন এবং করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঘোষিত তিনটি রেডজোন ১৪ দিন পরে ইয়োলোজোনে রূপান্তরিত হলো কিনা তা অনুসন্ধান করা হবে। রোটারি ক্লাব কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করবে।

খুলনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গঠিত জেলা কমিটির এক জরুরি সভায় এ সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতা সীমিত। বেসরকারি হাসপাতাগুলো মানবিকতার নিদর্শন রাখতে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নিশ্চয় এগিয়ে আসবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালের একটি অংশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

খুলনার চারটি বড় হাসপাতাল যথাক্রমে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি অংশে ৫০টি করে শয্যায় কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি খুলনা সদর হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৪২টি শয্যা অতি দ্রুততার সাথে উপযোগী করতে সিভিল সার্জন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের করোনা শনাক্তের পরীক্ষার রিপোর্ট (নেগেটিভ ও পজিটিভ উভয় ক্ষেত্রে) অতি দ্রুততার সাথে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে সিভিল সার্জনের দফতর জানানোর ব্যবস্থা করবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় খালিশপুরের লাল হাসপাতাল এবং তালতলা হাসপাতাল দু’টি কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

খুলনার করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আরও একটি পিসিআর ল্যাব এবং কোভিড হাসপাতালে দ্রুত হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা  স্থাপনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইতোপূর্বে ঘোষিত তিনটি রেডজোন এলাকায় ১৪ দিন পর ইয়োলোজোনে রূপান্তরিত হলো কিনা তার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

উপযুক্ত জায়গা পেলে খুলনার রোটারি ক্লাব কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জন্য ১০০টি শয্যার যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিতে প্রস্তুত আছে।

সভার শেষে উদ্ভুত করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতিতে ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে অনলাইনভিত্তিক অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ওষুধ সামগ্রী সংগ্রহের এই অ্যাপটির উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সভায় জুম অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসালম, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মোঃ রেজা সেকেন্দার, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, খুলনার সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার  ম. জাভেদ ইকবাল, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলী, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজাসহ অন্যান্য সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা।