ভৌত ও অবকাঠামো উন্নয়নে কেসিসি’র ২৮শ’ ৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ

খুলনা প্রতিনিধি : মহানগরীর ভৌত ও অবকাঠামো উন্নয়নে ২৮শ’ ৪১ কোটি ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। কর্পোরেশনের ইতিহাসে এত বড় প্রকল্প এবারই প্রথম। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে ডিপিপি প্রেরণ করা হবে। তবে কর্পোরেশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, শিশুদের শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলাশয় সংরক্ষণ, খেলারমাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক নির্মাণ, জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনারোধসহ শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নাগরিক পরিষেবা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী উদ্দেশ্য নিয়ে জিওবি ও নিজস্ব ২৮শ’ ৪১ কোটি ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলো হলো রাস্তা উন্নয়ন, ড্রেন নির্মান ও পাম্প হাউজ নির্মাণ, ১নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৩১নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত ৫তলা ফাউন্ডেশনের ২তলা বিশিষ্ট অফিস, ৫ তলা ফাউন্ডেশনের ২ তলা ও ৩ তলা বিশিষ্ট ওয়ার্ড অফিস কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ এবং ওয়ার্ড অফিস উর্ব্ধমুখী সম্প্রসারণ। নগর ভবনের ৭ম ও ৮ম তলা নির্মাণ, পুরাতন নগর ভবন মেরামত ও সম্প্রসারণ, অফিসার্স কোয়াটার মেরামত, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ওয়াকিটকি সিসটেম উন্নয়ন, জিআইএস ও জিওলোগিক্যাল ল্যাব উন্নয়ন এবং ফার্নিচার সরবারহ। ২৫তলা ফাউন্ডেশসহ ২২তলা বিশিষ্ট পাবলিক হল ভবণ নির্মাণ, রূপসা কলেজিয়েট গালর্স স্কুল, দেয়ানা কলেজিয়েট স্কুল, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, খালিশপুর দারুল কুরআন দাখিল মাদরাসার নতুন ভবন নির্মাণ, উর্ব্ধমুখী সম্প্রসারণ, নতুন ব্লক নির্মাণসহ আসবাবপত্র সরবারহ। দেয়ানা, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর গোয়ালখালি, বসুপাড়া, টুটপাড়া, নিরালা, হাজী মালেক, সাহেবের খ্রিষ্ঠান কবরখানার বাউন্ডারী ওয়াল, মাটি ভরাট, অভ্যন্তরীন ড্রেন, অফিস বিল্ডিং, প্রবেশ গেট, ওজুখানা ও টয়লেট, মোনাজাত ও জানাজা চত্ত্বর, রিটেইনিং ওয়াল ও ঘাটলা নির্মাণ। মহেশ্বরপাশা ও গল্লামারী রূপসার শ্মশানের বাউন্ডারী ওয়াল, বিল্ডিং মেরামত, চুল্লি স্থাপন ও পেভমেন্ট টাইলস স্থাপন। আন্দিরপুকুর খানজাহান আলি দিঘি, জোড়াকল বাজার পুকুর, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড অফিস, পুকুর, জোড়াগেট পুকুর, মহেষট্যংক পুকুরের রিটেইনিং ওয়াল , ঘাটলা, চারিপাশে ওয়াকওয়ে ও বেঞ্চ নির্মাণ। ঘুড়ির মাঠ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড খেলার মাঠ, ২০ নম্বর ওয়ার্ড খেলার মাঠ, সবুজসংঘ খেলার মাঠ, মহেশ্বরপাশা মাঠে মাটি ভরাট, চারিপাশে ওয়াকওয়ে, বেঞ্চ, প্লান্টেশন ও বিউটিফিকেশন, শিশু রাইডস নির্মাণ।  বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের মোড়, খালিশপুর গোলচত্ত্বর, নতুন রাস্তার মোড় উন্নয়ন, ফুটপাত নির্মাণ, মিডআইল্যান্ড, ল্যান্ডস্কেপ ভাষ্কর্য মেরামত ও ফোয়ারা নির্মাণ। শহিদ হাদিস পার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা পার্ক, নিরালা পার্ক, ফুলবাড়িগেট, কদমতলা পার্ক ও খালিশপুর পার্কে পাড় মেরামত, ফোয়ারা মেরামত ও নির্মাণ, বৈদ্যুতিক করণ, শহিদ মীনার, প্লাজা, ওয়াকওয়ে মেরামত, আব্রেলা, ফুডকোট, বেঞ্চ, ঘাটলা, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, টাইপ-এ ও বি  গণশৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কার। শহরের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ছাউনী, খালিশপুর কসাইখানা নির্মাণ ও আধুনিকায়ন। প্রচার বিজ্ঞাপন ও বিল্ডিং নির্মাণ, যশোর রোড স্টেশন, শিববাড়ি মোড়, দৌলতপুর বিএল কলেজ মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক ব্যয়সহ বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

কর্পোরেশনের চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত কাজ শেষ হয়েছে। শিগগির স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে এ ডিপিপি প্রেরণ করা হবে। চলতি বছর এ প্রকল্প অনুমোদন মিললে ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূর হবে। এছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, শিশুদের শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলাশয় সংরক্ষণ, খেলারমাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক নির্মাণ, জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনারোধসহ শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।