আশাশুনিতে ৩য় শ্রেণির ছাত্রকে নারী নির্যাতনের মামলায় আটক : ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তৃতীয় শ্রেণি ও হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র তাজমিরুল সরদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। সে উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নের খরিয়াটি গ্রামের হান্নান সরদারের ছেলে। একই গ্রামের আব্দুল গফফার সরদারের পুত্র ময়নুদ্দিন সরদার বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০ ধারায় মামলা করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তার শিশু কন্যা (বয়স ৫ বছর)-কে তাজমিরুল সরদার তাদের বসত ঘরে নিয়ে শ্লীলতা হানি ঘটায়। এ ব্যাপারে শিশুর পিতা হান্নান সরদার জানান, তাদের সাথে জমিজমা কেন্দ্রিক দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময় ময়নদ্দিন গংরা ষড়যন্ত্র করে হান্নান গংদের ঘায়েল করতে না পেরে শেষ মেষ একটি কল্প কাহিনী তৈরি করে হান্নান গংদের বেকায়দায় ফেলতে শিশু তাজমিরুলকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে বিরোধ চললেও শিশুদের মধ্যে বিরোধ ছিল না। প্রকৃত ঘটনা হলো ওই দিন হাফেজি পড়–য়া শিশু তাজমিরুল, বাদীর ভাইপো বাহারুল (০৮) ও বাদীর কন্যা এক সাথে কাদামাটি খেলছিল। এ সুযোগে বাদী ময়নদ্দির পিতা আব্দুল গফ্ফার সরদারের কুপরামর্শে নাটক সাজিয়ে বাহারুলকে সাক্ষী করে পাশ কাটিয়ে তাজমিরুলকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় ঘটনা ৩০ জুন সকাল ১০ টা দেখানো হলেও বাদী পক্ষ মীমাংসা করবে বলে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করলেও চোখ উল্টে তা আর আমলে না নিয়ে ৩ জুলাই মামলা দায়ের করে হান্নান জানান। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহল বহুভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় গফ্ফার সরদারের একগুয়েমীতে শেষ মেষ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। শুক্রবার শিশু তাজমিরুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে শনিবার কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে। এ সময় আসামি তাজমিরুল ও পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন কাঁদতে কাঁদতে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথিমধ্যে কয়েকবার বমি করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানাগেছে। তাকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে ্আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক মিথ্যা মামলায়  আটক শিশু তাজমিরুলের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অপর দিক  শিশু তাজমিরুলের পরিবার মানবিক দিক বিবেচনা পূর্বক আদালতের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ঘটনায় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।