শনাক্ত রোগী ছাড়ালো ১  লাখ ৬৫ হাজার

বিডিনিউজ : একদিনে আরও ৩ হাজার ২০১ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জনে।

সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৯৬ জন।

আইইডিসিআরের অনুমিত হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে আরও ৩ হাজার ৫২৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ১৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বুধবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ।

আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৫ জুলাই তা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৫ জনের এবং বাড়িতে থাকা অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের, ২ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন রংপুর বিভাগের, ৪ জন বরিশাল বিভাগের এবং ২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

এই ৪৪ জনের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ৬ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে ৭৩টি পরীক্ষাগার চালু হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮টি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা সংগ্রহের তথ্য এসেছে।

এসব পরীক্ষাগারে গত এক দিনে ১৪ হাজার ২৪৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে; এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩০৭টি নমুনা।

পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মৃত্যু হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

আইসিইউ শয্যা থাকলেও অনেক রোগীকে তা বরাদ্দ দিতে না পারার কারণ এই বুলেটিনে ব্যাখ্যা করেন ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনিসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য শয্যা বরাদ্দ থাকে। মেডিসিন বিভাগে রোগী বেশি হয়ে গেলে নেওয়ার জায়গা থাকে না। তখন সার্জারি বা গাইনি ওয়ার্ডে শয্যা খালি থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া যায় না।

“কারণ সার্জারি বা গাইনি বিভাগের আইসিইউর যে ব্যবস্থা, তাতে অনেক সময় অপারেশনের রোগী থাকে। সেজন্য মেডিসিন বিভাগের রোগীদের আইসিইউর চাহিদা থাকলেও চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে অন্য বিভাগের আইসিইউ দেওয়া যায় না।”