চৌগাছায় মুক্তিযোদ্ধাকে ধমক প্রকৌশলীর

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় রওশন আলী নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি একটি কাজে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসে গেলে অফিস রুমের সামনে দাঁড় করিয়ে প্রকৌশলী আব্দুল মতিন তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। এক পর্যায়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্ধত্বপূর্ণ আচারণ এবং অপমানিত করেন। উপজেলা প্রকৌশলীর এহেন কাজের জন্য এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে।

লাঞ্ছিত হওয়া মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তিনি উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের দীঘড়ি গ্রামের বাসিন্দা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ২০১২ একটি বাড়ি উপহার দেন। এই বাড়ির সংযোগ সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওই রাস্তা সংস্কার করে দেয়ার প্রতিশ্র“তি  দেন উপজেলা প্রশাসন। ২০১৯ সালের দিকে তার বাড়ির র াস্তাটি সোলিং করার জন্য ইট-বালুও ফেলা হয়।

অভিযোগ করে আরো বলেন, কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তার বাড়ির রাস্তাটি করতে না দেয়ায় ওই ইট-বালি তুলে নেয়া হয়। মু্ক্িতযোদ্ধা রওশন আলী এ বিষয়টি জানার জন্য সোমবার উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসে যান। তবে সেসময় তার পরনে লুঙ্গি থাকায় তাকে উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে ঢুকতে দেননি তিনি। এরপর মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী পাজামা-পাঞ্জাবি পরে নিজের মুক্তিযোদ্ধা ব্যাচ লাগিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে যান। মঙ্গলবারও উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলীকে তার অফিস রুমের দরজায় দাড় করিয়ে রাখেন। মুক্তিযোদ্ধার অনুরোধের পরও তিনি তাকে রুমের মধ্যে প্রবেশের অনুমতি দেননি। অথচ তখন প্রকৌশলী সাহেব অফিসে কয়েকজনকে বসিয়ে আড্ডা গল্প করছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী বলেন, এসময় আমি রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই আপনাকে বলতে পারবনা। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী জোর করলে প্রকৌশলী আব্দুল মতিন রওশন আলীকে বলেন, তুই এখান থেকে যাবি নাকি ঘাড় ধাক্কা দেব। এরপরে প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সাহেব উঠে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন তাকে বাধা দেয়।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন রওশন আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার কারণে আতংকে আছি। এজন্যই তাকে রুমে ঢুকতে দিইনি। তাছাড় কাকে আমার রুমে প্রবেশ করতে দেব কি দেবনা সেটা আমার ব্যাপার। সংবাদিকদের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই এইসব ফালতু ঝামেলা নিয়ে পড়ে থাকে। বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য. ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় চৌগাছা হাসপাতালে এক্সরে মেশিন প্রদান কাজে দুর্নীতি ও মাধবপুর শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে পানিতে ভেষে যাওয়া এবং উপজেলার কড়ইতলা-লস্কারপুর সড়ক নির্মাণ কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে সম্প্রতি কয়েকটি দুর্নীতির নিউজ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের উপর চটেছেন বলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে। অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) প্রকল্পের কাজে সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া অর্থ বছরে চরম দুর্নীতি করছেন এই প্রকৌশলী।