ঝিকরগাছায় বৃদ্ধার মৃত্যু নিয়ে সংবাদকর্মী পরিচয়ে প্রতারকচক্রের অর্থবাণিজ্য!


এম আলমগীর,ঝিকরগাছা:
যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ ছেলের উপর চাপিয়ে সংবাদকমী পরিচয় দিয়ে প্রতারকচক্র অর্থবাণিজ্য করেছে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বড় পোদাউলিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, বড় পোদাউলিয়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫৭) শুক্রবার সকালে নিজবাড়ির উঠানে আচমকা পড়ে যান এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় স্থানীয় একটি কুচক্রীমহল ওই বৃদ্ধাকে তার ছেলে হাসানুর রহমান পিটিয়ে হত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ উঠিয়ে বাঁকড়া আইসি ক্যাম্প পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাঁকড়া আইসি ক্যাম্পের ইনচার্জ রিপন বালা ও এস আই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নিহত বৃদ্ধার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় দাফন করতে বলেন এবং কাউকে কোনো টাকা-পয়সা না দিতেও বলেন আইসি রিপন বালা। কিন্তু ওই ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় একটি মহলের যোগসাজসে বৃদ্ধার পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশ্ববর্তী শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া এলাকার ৩ জন কথিত সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারী শহিদুল ইসলাম, সেলিম হোসেন, কামাল হোসেন এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যের যোগসাজসে ৩৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। মৃতের বাড়ি থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে ঝিকরগাছার কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গেলে নিহত বৃদ্ধার ভাসুর দ্বীন ইসলাম বলেন, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জাহান আলী তার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া নিহত বৃদ্ধার ছেলের মামা শ্বশুর কুলবাড়িয়া গ্রামের বাবলুর রহমানের মাধ্যমে কথিত ওই সংবাদকর্মীদের ঠেকাতে ৩৪ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তবে কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে নিহত বৃদ্ধার ছেলে হাসানুর রহমান দাবি করলেও সেই টাকা কোথায় রেখেছেন তা তিনি বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য জাহান আলী বলেন, ৫ হাজার টাকা তিনি স্থানীয় ছেলেদের দিয়েছেন। চাইলে ওদের কাছ থেকে নিয়ে সন্ধ্যায় ফেরত দিয়ে দেব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেখানে আসা সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারি শহিদুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, টাকা স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি মাধ্যে লেনদেন হয়েছে। পাশ্ববর্তী উপজেলার কথিত এসব সংবাদকর্মী গলায় বিভিন্ন অনলাইনের কার্ড ঝুলিয়ে, বিভিন্ন অনলাইন টিভির লোগো নিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায় বলেও গ্রামবাসী জানিয়েছেন।