সাচ্চু ওস্তাদের আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী


ক্রীড়া প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের সাবেক প্রশিক্ষক ও যশোর জেলাসহ দক্ষিণ বঙ্গের ফুটবলার তৈরির কারিগর এমদাদুল হক সাচ্চু ওরফে সাচ্চু ওস্তাদের আজ ১১ অক্টোবর শনিবার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। করোনার পরিস্থিতির কারণে এবার দোয়া মাহফিলসহ কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না যশোরের ক্রীড়া সংগঠনগুলো। তার নামে প্রতিষ্ঠিত সাচ্চু ফুটবল কোচিং সেন্টারের সভাপতি কাওসার আলী ও সম্পাদক এবিএম আখতারুজ্জামান এক বিবৃতিতে জানান, গত বছর সাচ্চু ওস্তাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল করা হয়েছিলো আমাদের সংগঠনের ব্যানারে। তবে এবছর করোনার কারণে সেটাও করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এমদাদুল হক সাচ্চুর রুহের শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করার জন্য অনুরোধ করছি। এমদাদুল হক সাচ্চু দু’বছর আগে খুলনার আবু নাসের হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
এমদাদুল হক সাচ্চুর সংক্ষিপ্ত জীবনী : ইস্ট বেঙ্গল দলের সক্রিয় ফুটবলার ছিলেন এমদাদুল হক সাচ্চু। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল ৩ বছর ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ১ বছরের জন্য তিনি সিএন্ডবি দলের হয়ে খেলেছেন। পরবর্তী ৩ বছর যশোর টাউন ক্লাবের পক্ষে খেলে সফলতা অর্জন করেন। এরপর তিনি খেলা ছেড়ে প্রশিক্ষক হতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রশিক্ষক কোর্স সম্পন্ন করেন। জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় এ কোর্স সম্পন্ন করেন। শামস-উল-হুদা ও কামাল উদ্দিন হাফেজের সহযোগিতায় এ কোর্স করেন। কোর্স শেষ করে যশোর হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি প্রথম কোচিং শুরু করেন। প্রথম বছরেই এ বিদ্যালয় থেকে যশোর জেলা দলে সুযোগ পান অনেক খেলোয়াড়। ১৯৯১ সালে খুলনা বিভাগীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পান এমদাদুল হক সাচ্চু। বিভাগীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় তার দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। যশোর ইনস্টিটিউট দলকে ওই বছর তিনি মাত্র ৩ মাসের ট্রেনিং করিয়ে খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ৩৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে তিনি পুনরায় ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু করেন। সে বছরই ১১ জন খেলোয়াড় সুযোগ পান যশোর জেলা দলে। যার ফলশ্রুতিতে টাউন ক্লাব পরপর ২ বছর জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর এমদাদুল হক সাচ্চু মেয়েদের (প্রমীলা) ফুটবল প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। সোনিয়াকে নিয়ে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এখনও তার অসংখ্য মেয়ে ফুটবলার নামকরা ফুটবলার। ২০১০ সালে তার কাছ থেকে ৯জন মেয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলার সুযোগ পায়। সেই ৯জন মেয়ে মালয়েশিয়ায় খেলার সুযোগ পেয়েছিলো। সারা বাংলাদেশে মাত্র ৬ জন মেয়ে আমেরিকায় ফুটবলের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিল। শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এএফসি গার্লস ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ দলের কোচ ও চিফ ম্যানেজারের দায়িত্ব পান তিনি। এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ দল। তাছাড়া এএফসি ফেয়ার প্লে ট্রফি পায় তার দল। শুধু তাই নয় তার ছাত্ররা বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন। এর মধ্যে মাসুদুর রহমান টনি উল্লেখ্যযোগ্য।