আলমডাঙ্গায় পশুর দাম  নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

জামসিদুল মুনি, আলমডাঙ্গা অফিস: আর মাত্র কদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ নামেই বেশি পরিচিত এই ঈদ। ঈদুল আযহার বিশেষ আকর্ষণ পশু কোরবানি। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে আলমডাঙ্গা উপজেলার গরু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততোই বেড়ে চলেছে। কারন করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।এমন অবস্থায় আলমডাঙ্গার পশু বাজারে নিতে পারবেন কিনা,বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা,এসব নানাবিধ প্রশ্ন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপজেলার পশু খামারিরা। খামারিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কোরবানির পশু বাজারে তোলার সময় এগিয়ে আসলেও করোনা ভাইরাস নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা। প্রকৃত পক্ষে কোরবানির ঈদ কে সামনে রেখেই খামারিরা সারাবছর পশু হিসেবে গরু,মহিশ,ছাগল,ভেড়া পালনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। তাই ঈদে পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে তাদের। শুধু খামারিরাই নয়,কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একজন বিধবা দরিদ্র মহিলা বা সাধারন কৃষক থেকে শুরু করে হাজার হাজার সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী, ব্যাবসায়িসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ গরু,ছাগল,ভেড়া পালন করেন।তারাও করোনার কারনে পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।এ ছাড়া লেখাপড়া শেষ করে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক,যুবতী পেশা হিসেবে বেঁছে নিয়েছে ডেইরি ফার্ম বা গরু ছাগল মোটা তাজাকরণ পেশা। এই কারণে প্রত্যান্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বড় বড় খামার। সেখান থেকে সারাবছর স্থানীয় কসাইদের কাছে পশু বিক্রয় করলেও বিশেষ তদারকিতে পশু তৈরি করা হয় কোরবানি ঈদে অধিক লাভে বিক্রয়ের আশায়। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্রে জানাযায়,একটি পৌরসভা ও ১৫ টি ইউনিয়নে এবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২ হাজার ৫ শত ৪৮ টি খামারে মোট ৪০ হাজার ২শত ১৮ টি হৃষ্ট-পুষ্টকর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাড় ১৮ হাজার ১ শত ৫০ টি,মহিশ ৭৬ টি, ছাগল ২১ হাজার ৫ শত ৩৫ টি,ভেড়া ২শত ৪ টি। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, জাহাপুর, কামালপুর, কালিদাশপুর, কুমারি, জেহালা, বাড়াদী, জামজামি, খাসকররা,আইলহাস,নাগদা,ডাউকি,বেলগাছি, গাংনী,ভাংবাড়ীয়া,খাদিমপুর,চিৎলা সহ পৌর সভায় যে সমস্ত খামারিরা যদি ভালো দাম না পায়। আর করোনার কারণে ক্রেতারা হাটে না আসে তাহলে খামারিদের কষ্টের সীমা থাকবে না। এর উপর যদি সরকারি আদেশে পশুহাট বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বহু টাকা লোকশান গুনতে হবে খামারিদের।