যশোরের সিভিল সার্জন আক্রান্ত , ইউএনওর স্ত্রীসহ ১৫ জনের পজেটিভ

বিল্লাল হোসেন : এবার করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনসহ জেলায় ১৫ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১ জন মৃত রোগীর ফলাফল রয়েছে। রোববার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেন।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, রোববার জেনোম সেন্টার থেকে ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হয়। এতে  ১৫ জনের করোনা পজেটিভ ও ১৭ জনের নেগেটিভ শনাক্ত হয়। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৯ জন, অভয়নগর উপজেলায় ৫ জন ও মণিরামপুর উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোববার যশোর জেলার আরও ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য যবিপ্রবি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এদিন নতুন করে ৯ জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, পজেটিভ শনাক্ত হওয়া মৃত রোগীর নাম আশরাফ (৬৫)। তার বাড়ি যশোর রাজারহাট এলাকায়। মারা যাওয়ার ২ দিন পর তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে পেয়েছি।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য উপজেলার মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এএনএম নাসিম ফেরদৌস জানান, সদর উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে ১ জন সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা গ্রামের ১ জন পুরুষ (৬০) রয়েছেন। তাকে সাতক্ষীরা জেলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকিরা হলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন (৪৮), যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের স্ত্রী (২৬), শ্যালিকা (৬), গৃহ পরিচারিকা (৩৫), বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার ১ জন নারী (৪০) , পালবাড়ি নতুন খয়েরতলা এলাকার ১ জন নারী (৪০),  রাজারহাট এলাকার ১ জন পুরুষ (৬৫) ও ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা এলাকার ১ জন যুবক (১৮)। ডা. এএনএম নাসিম ফেরদৌস জানান, আক্রান্তদের মধ্যে  আনসার ক্যাম্প  এলাকা ও নতুন খয়েরতলা এলাকার দুই নারী করোনা ডেডিকেটেড জিডিএল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা হোম আাইসোলেশনে রয়েছেন। তিনি  আরো জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নমুনা পলীক্ষা হলেও নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছে। রোববার তার ৮ মাস বয়সী মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরআগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়। বর্তমানে তিনি সুস্থ জীবন যাপন করছেন।  করোনা প্রতিরোধ কমিটির আরেক সদস্য প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও  চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রোববার যশোর ত্যাগ করেছেন।

সিভিল সার্জন ডা.শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, শরীরে জ্বর অনুভূত হওয়ার কারণে গত  ১১ জুলাই (শনিবার) নমুনা দিয়েছিলাম। পরীক্ষায় ফলাফল পজেটিভ হয়েছে। আগে থেকে এখন শরীরে জ্বর কম মনে হচ্ছে। হালকা কাশি রয়েছে। বর্তমানে সরকারি বাংলোতে চিকিৎসাধীন আছি। অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

তিনি আরো জানান, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করবেন। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন আরো জানিয়েছেন, মরণব্যাধি করোনাভাইরাস আতঙ্ক সবার মাঝে রয়েছে। তিনিও এর বাইরে নন। তারপরেও মানুষের কথা চিন্তা করে তার ছুটে চলা অব্যাহত ছিলো। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে তিনি আবারো করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াবেন। সূত্র জানিয়েছে, গত ২২ এপ্রিল যশোরে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অবিরাম ছুটে চলেছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ নিয়েছেন। করোনাকালে নিজের জীবন বাজি রেখে বিশেষ ভূমিকার জন্য ডা. শেখ আবু শাহীন সব মহলে প্রশংসিত। যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার  ১৫ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ১২ নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের, বাগেরহাট জেলার ৮০ নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের ও  সাতক্ষীরা জেলার ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ২১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮০ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৩৮ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। উল্লেখ্য, রোববার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৯শ’ ৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন মোট ৪৯৬ জন। এ ছাড়া ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।