মণিরামপুর কেন্দ্রীয় মসজিদে সভাপতির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সভা বর্জন, বিক্ষোভ

মণিরামপুর প্রতিনিধি : মণিরামপুর পৌর শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির নানা অনিয়ম নিয়ে মুসল্লিদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পর এবার সভাপতির একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সভা বর্জন করেছেন কমিটির প্রবীণ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন। এছাড়া কমিটিতে থাকবেন না ও সভায় এ অংশ নেবেন না এমন কথা জানিয়ে রেজ্যুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করেননি একই কমিটির সহসভাপতি আলহাজ শফিকুল ইসলাম। অপরদিকে একই কারণে কমিটিতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন আরো অনেকেই বলে জানা গেছে।

জানাযায়, গত বুধবার জোহরের নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ১৯৮৭ সাল থেকে একক সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। মিটিং বর্জনকারী অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন মেল জানান, মসজিদে পূর্বের ইমামকে অব্যহতি এবং নতুন ইমাম ও সদস্য নিয়োগের ব্যাপারে সভাপতির সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কথা বলতে পারবেন না। সে কারণে তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে সভা বর্জন করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। কয়েকজন প্রবীণ সদস্যের মৃত্যুতে কমিটির সম্মিলিত মতামত ছাড়াই ইতোমধ্যে সভাপতির পুত্র মাওলানা রশীদ আহম্মেদ ও ভাগ্নে আতিয়ার রহমানসহ কয়েকজনকে মসজিদ কমিটির নতুন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। যাদেরকে নতুন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে মসজিদের খতিব ছাড়া অন্যরা কেন্দ্রীয় মসজিদের নিয়মিত মুসল্লিহ নন। মসজিদের সাবেক সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান জিএম মজিদ বলেন, সভাপতির কাছের লোক রফিকুল ইসলাম মোল্লা কর্তৃক মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সভাপতি কোনো পদক্ষেপ নেননি। এছাড়া, মুসল্লিহদের কোনো মতামত ছাড়াই কমিটির অনিয়ম কার্যক্রমসহ নানা কারণে তিনি মসজিদ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। দীর্ঘকাল ধরে যারা সভাপতির সিদ্ধান্তের সময় এক প্রকার বোবা হয়ে থাকবেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে গত রমজান মাসে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই দীর্ঘদিন ইমামের দায়িত্বে থাকা মুফতি মাসউদুর রহমানকে অপমান-অপদস্ত করে অব্যহতি দেয়া হয়। এতে চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন মসজিদের অধিকাংশ প্রবীণ মুসল্লিহরা। এক পর্যায়ে মুসল্লিহদের মতামত নিয়ে মসজিদের কমিটি গঠন করতে হবে এমন দাবিতে জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে মুসল্লিহরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে মসজিদের বিভিন্ন পর্যায়ের মুসল্লিহরা গণস্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এবং থানায় লিখিত আবেদন করেন। কেন্দ্রীয় মসজিদের মুুসল্লিহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, আল্লাহর ঘর মসজিদ হচ্ছে ইবাদতের জায়গা। কিন্তু মুসল্লিদের মতামত ছাড়াই কমিটি গঠন ও তার অনিয়ম কার্যক্রম চলমান থাকার কারণে মুসল্লিদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস জানান, পূর্বের ইমামকে অব্যহতি ও নতুন ইমাম নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে। মুসল্লিদের মতামত নিয়ে কমিটি গঠনের দাবিতে গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদ্য পদন্নোতি পেয়ে বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।