যশোরে নতুন শনাক্ত ৩৭

বিল্লাল হোসেন : মঙ্গলবার যশোরে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ৮ মাসের শিশু কন্যাসহ নাইসাসহ  নতুন করে ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক দম্পতি, ২ জন সেবিকা,  ১ জন ব্যাংকার ও ১ জন মৃত রোগী। এই পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮৫ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৭৫ জন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনায় জেলার মধ্যে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যশোর শহর ও সদর উপজেলা। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি)জেনোম সেন্টার থেকে ৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হয়। এতে ৩৭ জনের করোনা পজেটিভ ও ৬১ জনের নেগেটিভ শনাক্ত হয়। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৩৪ জন ও শার্শা উপজেলায় ৩ জন রয়েছেন। এদিন নতুন করে ৩৪ জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, পজেটিভ শনাক্ত হওয়া মৃত রোগীর নাম আলী হোসেন (৭৫) । তিনি চৌগাছা উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। আলী হোসেন ১১ জুলাই রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনাওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান ইমতিয়াজ জানান, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন  যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের ৮ মাসের মেয়ে, কারবালার বাসিন্দা ১ জন চিকিৎসক  (৭৫), তার স্ত্রী (৫০), উপশহর এলাকার বাসিন্দা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জ (৩৯), ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা আরেকজন সেবিকা (৫০), সেন্ট্রাল রোডের ১ জন নারী (৩৬), যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী ২ জন কারারক্ষী, চোরমারা দিঘীরপাড়া এলাকার ১ জন ব্যাংকার (৪০),  খড়কি সার্কিট হাউজ পাড়ার ১ জন নারী (১৯),  ষষ্টিতলা এলাকার ১ জন পুরুষ (৫০), চাচড়া ডালমিল এলাকার ২ জন পুরুষ, খড়কি এলাকার মুজিবর (৫০), বেজপাড়া পূজা মন্দির এলাকার বাসিন্দা ২ জন নারী, বিরামপুর এলাকার ১ জন পুরুষ (৩০), কিসমতদ নওয়াপাড়ারর ১ জন পুরুষ (৩০), বারান্দীপাড়া ঢাকা রোডের বাসিন্দা যশোর সিভিল সার্জন অফিসের ১ জন কর্মচারী (২৮), পুলেরহাট গ্রামের ২ জন পুরুষ, যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ১ জন রোগী (৭৫), বেজপাড়া বনানী রোডের বাসিন্দা ১ জন পুরুষ (২৮), তালতলা সুইপার কলোনীপাড়ার ১ জন পুরুষ ও রুপদিয়ার ১ জন পুরুষ (৪৮)। এছাড়া আফিফা, আশিকুল, মজিবুর , কামরুল , আব্দুল মান্নান, জাহানারা খাতুন ও পলাশ মিয়ার হদিস মেলেনি। তাদের মোবাইল ফোনের নম্বরও বন্ধ। সন্ধান মেলানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া কালীগঞ্জের বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশের সদস্য হরিদাস(৫৩) মাহফুজুর রহমানকে (৫০) ঝিনাইদহ জেলায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডা. আদনান ইমতিয়াজ আরো জানান, গত ১২ জুলাই রোববার শনাক্ত হয়েছিলেন যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের স্ত্রী (২৬), শ্যালিকা (৬), গৃহ পরিচারিকা (৩৫)। ওই দিন তার শিশু কন্যার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিলো। মঙ্গলবারের ফলাফলে তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তরা হোমআইসোলেশনে রেেয়ছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। শার্শা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, নতুন করে আক্রান্ত ৩ জন হলেন পুরুষ।  তারা নিজ বাড়ি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার  ৩৭ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৬৫ জনের ২৩ জন, সাতক্ষীরা জেলার ৬২ নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জন ও বাগেরহাট জেলার ৬৩ নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ২৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৭১ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোর জেলায়  করোনা রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন মোট ৫শ ৬৬ জন। মারা গেছেন ১৮ জন নারী পুরুষ।