যশোর রেডজোনে  করোনা শনাক্ত ২২

বিল্লাল হোসেন : যশোরে ৩ জন চিকিৎসক, ২ জন সেবিকা ও ১ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আরও ৭৪ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। বুধবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে পাঠানো ২১৪ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়। এই নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ১১শ’ ছাড়িয়েছে। যশোর শহরের রেডজোনগুলোতে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবার ২২ জন শনাক্ত হয়েছে রেডজোনে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, শনাক্ত ৭৪ জনের মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪৪ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৪ জন, চৌগাছা উপজেলায় ২ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৩ জন, কেশবপুর উপজেলায় ৯ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৮ জন রয়েছেন। বাকি ৪ জন পুরাতন রোগী। ফলোআপ নমুনা পরীক্ষায় তারা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদিন নতুন করে ৩৩ জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে বুধবার আরো ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য যবিপ্রবির জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান ইমতিয়াজ জানান, যশোর সদর উপজেলায় আক্রান্ত ৪৪ জনের মধ্যে ৬ জনের হদিস মেলেনি। বাকিদের মধ্যে যশোর শহরে  রয়েছেন ২২ জন। তারা সকলেই রেডজোন এলাকার বাসিন্দা। আর সদর উপজেলায় রয়েছেন ১৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন রেলরোডের বাসিন্দা যশোর মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এএইচএম আব্দুর রউফ, যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসরাত জাহান নুরানী, ও মুজিব সড়কের বাসিন্দা ডা. আনোয়ার হোসেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সেবিকা মুতাকিন নেসা, জেসমিন নাহার এবং ওয়ার্ডবয় দাউদ গাজী। আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছায় আক্রান্ত ২ জন পুরুষ। তাদের ১ জন হলেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম সবুজ। এছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলায় ১ জন নারী, ৩ জন পুরুষ, মণিরামপুর উপজেলায় ২ জন পুরুষ, কেশবপুর উপজেলায় ১ জন নারী , ৮ জন পুরুষ, অভয়নগর উপজেলায় ১ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ।

যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার  ৪৪ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৫৮ জনের ২৩ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ২৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৭ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৭৫ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন মুঠোফোনে  জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত যশোর জেলার মোট ৬ হাজার ৮শ ৮২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৭শ ৪৭ জনের। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১শ ৫১ জন। এছাড়া মারা গেছেন ১৮ জন নারী পুরুষ। সিভিল সার্জন বলেন যশোর শহরের রেডজোনগুলোতে করোনায় শনাক্ত বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ।