অনলাইনে পশু কেনাবেচা বাড়ছে

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : ঈদুল আজহা যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনলাইনে পশু কেনাবেচা। পশু কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলো বলছে, দিন বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে পশু বেচাও।
এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস স্বাস্থ্যবিধি পালনে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে পশুর হাটের সংখ্যা। যে কয়টি হাট বসবে সেখানেও থাকবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কেনায় কড়াকড়ি। এছাড়া অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবার আর হাটে গিয়ে পশু কিনতে আগ্রহী নন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার চর্চা নতুন না হলেও এবার সবচেয়ে বেশি আলোচিত। যারা সশরীরে হাটে যেতে চাচ্ছেন না, তাদের জন্য দারুণ এক সমাধান হয়ে এসেছে পশু কেনার অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো। এছাড়া অনেকেই আবার প্ল্যাটফর্মই পশু বিক্রির পাশাপাশি কোরবানির পর মাংস হোম ডেলিভারিতে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সেবাও অফার করছে।

প্রথমবারের মতো অনেকটা সরকারি উদ্যোগে এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহযোগিতায় পশু কেনাবেচা হচ্ছে অনলাইনে।

ডিজিটাল হাট ডট নেটে গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিক্রির জন্য মোট পশু ছিল এক হাজার ৬৬৭টি। ৪৩ পার্টনারের মধ্য থেকে বিক্রি হওয়া পশুর সংখ্যা ছিল ৯৩টি। চলতি সপ্তাহে সেই পরিসংখ্যান বেড়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শতাধিক পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। ৫৩ পার্টনারে ডিজিটাল হাট ডট নেটে এখন পর্যন্ত পশু তুলেছেন দুই হাজার ৫৩২টি।

অন্যদিকে বেসরকারি উদ্যোগে কোরবানির পশু বিক্রির জনপ্রিয় মাধ্যম বিক্রয় ডটকমেও পশু কেনাবেচার পরিমাণ বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। বিক্রয় ডটকমের প্রধান বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা ঈশিতা শারমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা টানা ষষ্ঠ বারের মতো অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচার সুবিধা নিয়ে এসেছি। গতবছরও আমাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ১০ হাজার পশুর বিজ্ঞাপন আসে। এরমধ্যে তিন হাজারের বেশি পশু বিক্রি হয়। এবার আমরা ইতোমধ্যে ভালো সাড়া পেতে শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার পশু নিবন্ধিত হয়েছে। শতাধিক বিক্রি হয়েছে। শেষ দিনগুলোতে এর সংখ্যা আরও বাড়বে। আমাদের এখানে থাকা পশুগুলোর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ গরু এবং ৩৭ শতাংশ ছাগল।

আরেক প্ল্যাটফর্ম সদাগর ডটকমেও পশুর কেনাবেচা বাড়ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ চৌধুরী। তবে অধিকাংশ পশু বিক্রেতা পশুর দামের ক্ষেত্রে ‘হাট সংস্কৃতি’ অনুসরণ করছেন বলে জানান তিনি। আরিফ বলেন, প্রতিদিন আমাদের এখানে পশুর নিবন্ধন বাড়ছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রেতাদের আগ্রহও। আমাদের এখন যে সেটআপ, তা দিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ গ্রাহকের সেবা দিতে পারছি। তবে অধিকাংশ পশু ব্যবসায়ীই দামের ক্ষেত্রে হাটের মতো করছেন। তারা পশুর দাম অনেকটা বাড়িয়ে নিবন্ধন করছেন। এ নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে বেশি দেনদরবার করতে হচ্ছে। দেখা যাবে, হাটের মতো চান আর রাতে দাম কমে গেছে। অথচ অনলাইন হচ্ছে একদামে, ন্যায্যমূল্যে কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়া পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম। সরকার আমাদের সাহায্য করছেন, দাম নির্ধারিত করে দিয়েছেন। গরু ভেদে কেজি প্রতি দাম ৩২৫ থেকে ৪৭৫টাকা পর্যন্ত। অথচ ব্যবসায়ীরা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছেন, তাতে কেজি প্রতি দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকারও বেশি হয়ে যায়।

প্রিয়শপ ডটকমে এখন পর্যন্ত শতাধিক পশু বিক্রির জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০টির বেশি পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। ঈদ নাগাদ এই সংখ্যা অন্তত তিন গুণ হবে বলে আশা করছে প্রিয়শপ।

অন্যদিকে পশু কেনার প্রতি আগ্রহ বাড়লেও মাংস কেটে নেওয়ার প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ এখনও তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। বাংলানিউজকে তমাল বলেন, অনলাইনে পশু কেনার দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এটা ঠিক। তবে পশু জবাই করে মাংস হোম ডেলিভারি পাওয়ার যে সুযোগ এই অনলাইনেই আছে, এটাতে সেভাবে অনেকের আগ্রহ নেই। পরিবেশ দূষিত হয় না, আলাদা ঝক্কিঝামেলা নেই, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঘরে বসেই মাংস পাওয়া যাবে, লাইভে থেকে মাংস কাটা দেখা যাবে; এই সুবিধাগুলো সাধারণ গ্রাহকরা এখনও অনুধাবন করতে পারছেন না।