যশোরে নতুন শনাক্ত ৬৯,আক্রান্ত দেড় হাজার ছাড়ালো


বিল্লাল হোসেন:
যশোরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আব্দুর রশিদ (৬৭) নামে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে ৬৯ জনের করেনা শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগী দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সদর উপজেলায়। যাদের অধিকাশের বসবাস যশোর শহরে। এছাড়া জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, শুক্রবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে পাঠানো ২৭২ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৭০ জনের করোনা পজেটিভ উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে ২ জনের নাম যশোরের তালিকায় নেই। অন্য জেলার রোগীর নাম ভুল করে যশোরের তালিকায় চলে আসতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) ল্যাব থেকে ১ জনের করোনা পজেটিভ ফলাফল পাঠানো হয়। সেই হিসেবে শুক্রবার ৬৯ জন নতুন রোগী রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪১ জন ও শার্শা উপজেলায় ৮ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৪ জন, চৌগাছা উপজেলায় ২ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৩ জন, কেশবপুর উপজেলায় ৪ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ২ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৫ জন।
ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী আব্দুর রশিদ সদর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ২১ জুলাই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো। শুক্রবারের তার ফলাফলে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান ইমতিয়াজ জানান, নতুন করে আক্রান্ত ৪১ জনের মধ্যে ৩ জনকে অন্য জেলায় রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের নমুনা এখান থেকে দেয়া হলেও মূলত বাড়ি যশোর জেলার বাইরে। এছাড়া ৯ জন রোগীর হদিস পাওয়া যায়নি। নমুনা আবেদনে উল্লেখ করা মুঠোফোনের নম্বরও বন্ধ রয়েছে। ডা. আদনান ইমতিয়াজ আরও জানান, বাকি ২৯ জনের মধ্যে ১৮ জনের যশোর শহরে ও ১১ জনের বসবাস সদর উপজেলার বিভিন্ন। তারা হলেন পালবাড়ি ঘোষপাড়ার বাসিন্দা অগ্রনী ব্যাংক যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক, কাজিপাড়া মানিকতলার ১ জন পুরুষ, পুরাতন কসবার একই পরিবারের ২ জন, কারবালা ধোপাপাড়ার বাসিন্দা ইবনেসিনা যশোর শাখায় কর্মরত ১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, পুলিশ লাইন কোয়ার্টারে বসবাসকারী ১ জন পুলিশ সদস্য, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের ১ নারী , টালিখোলা বসবাসকারী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ১ জন পরিছন্নকর্মী, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১ জন স্টাফ, ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের ১ জন নারী, মুজিব সড়ক এলাকার ১ জন অ্যাডভোকেট, ষষ্টিতলাপাড়ায় বসবাসকারী সোনালী ব্যাংকের ১ জন কর্মকর্তা, একই এলাকার ১ জন নারী, পোষ্ট অফিসপাড়ার বাসিন্দা ও হাসান ইন্টারন্যাশনালের মালিক, পুলিশ লাইন এলাকার ১ জন যুবক, নুজির শংকরপুর এলাকার ১ জন পুরুষ, বেজপাড়া কবর স্থান পাড়ার ১ জন, মেইন রোডের ১ জন, নওয়াদাগ্রামে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন, উপশহর এলাকার বাসিন্দা ১ জন চিকিৎসক, সদুল্যাপুর গ্রামের ১ জন, বলরামপুর গ্রােেমর ১ জন, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ১ জন, কাশিমপুর গ্রামের ১ জন প্রধান শিক্ষক, চাঁচাড়া বাজার মোড়ের ১ জন, হাশিমপুর গ্রামের ১ জন ও বারীনগর এলাকার ১ জন এনজিও কর্মী। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ও বাকিরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যবিপ্রবির এনএফটি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৭০ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৭২ নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের শরীরের কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ৩৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮২ জনের করোনা পজিটিভ এবং ২৬২ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত যশোর জেলার ৮২৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল এসেছে ৬৯৭৬ জনের। এরমধ্যে করোনা পটিজিভ শনাক্ত হয়েছে ১৫৪৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭৯৬ জন।