করোনাভাইরাস : শনাক্ত রোগী  ২ লাখ ২১ হাজার ছাড়ালো 

বিডিনিউজ : দেশে করোনাভাইরাসের মহামারীতে সরকারি হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পেরিয়ে গেছে দুই লাখ ২১ হাজারের ঘর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে আরও ২ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দেশে শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৮ জন।

গত এক দিনে দেশে আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে; এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৪ জনে।

আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ১১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৯০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শনিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা দুই লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ।

আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৭ জুলাই তা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনে রেকর্ড ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। তাদের ৩৪ জন হাসপাতালে এবং তিনজন বাড়িতে মারা গেছেন; আর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৮ জনের মধ্যে ৫ জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ৯ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৮ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল।

তাদের ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন সিলেট বিভাগের, ১ জন রংপুর বিভাগের ও ৩ জন ময়মংসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত যে ২ হাজার ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৬৬ জন পুরুষ, ৬০৮ জন নারী।

তাদের মধ্যে এক হাজার ৩০৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৮৩৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪০৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৯৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৮২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩০ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৮ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের নিচে।

এদের এক হাজার ৩৮৯ জন ঢাকা বিভাগের, ৭৭১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১৬৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ১৯৮ জন খুলনা বিভাগের, ১০৯ জন বরিশাল বিভাগের, ১২৪ জন সিলেট বিভাগের, ১০৫ জন রংপর বিভাগের এবং ৬১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৭৭টি ল্যাবে ১০ হাজার ৪৪৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ১ হাজার ৪৮০টি।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনাভাইরাসের সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট www.dghs.gov.bd Gi CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’লিংকে অথবা http://app.dghs.gov.bd/covid19-complaint লিংক ব্যবহার করে পাঠানো যাবে।