সমস্যায় বিপর্যস্ত মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরা ফিরতে চান বড়বাজারে

মিরাজুল কবীর টিটো : করোনা প্রার্দুভাবে বসানো যশোর টাউন হল মাঠের মাছ ও ঈদগাহ মাঠের সবজি ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যায় বিপর্যস্ত হয়ে এখানে ব্যবসা করতে চাচ্ছে না। তারা চান আগের স্থান বড় বাজারে ফিরে যেতে। যে গেট দিয়ে  ক্রেতারা মাঠে ঢুকবে সেই দক্ষিণ পাশের গেট ইন্সটিটিউট ইচ্ছামতো খুলছে ও বন্ধ করছে। গেট বন্ধ রাখায় ক্রেতারা  মোটরসাইকেল কিংবা রিক্সায় করে বাজার করতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। আর ঈদগাহ মাঠে বৃষ্টিতে কাঁদা পানি জমছে। সেই সাথে ঈদগাহের সামনের রাস্তায় নির্মাণ কাজ হওয়ার কারণে বাজারে ক্রেতা আসা কমে গেছে। এ ছাড়া যে উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন স্থানে বাজার বসানো হয় তা পালন হচ্ছে না। কারণ মাছ বাজার ট্রিপল দিয়ে বানানো বদ্ধ একটি জায়গায় দেয়ায় সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। মানুষকে গায়ে গা লাগিয়ে বাজার করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।  অথচ বড় বাজারে চারিদিক দিয়ে পাকা সড়ক থাকায় মানুষ স্বাছন্দ্যে ঢুকতে ও বের হতে পারে। আবার পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে। একারণে সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীসহ ক্রেতারা বড়বাজারে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। আবার শহরের বিভিন্ন স্থানে বসে তরকারি বিক্রেতারা বেচাকেনা করা শুরু করেছেন।

টাউন হল মাঠের মাছ ব্যবসায়ী হাবিব, সালাম জানান, মুজিব সড়ক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে ইন্সটিটিউটের পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে মাছ কিনতে ক্রেতারা আসেন না। তারা আসেন দক্ষিন পাশের গেট দিয়ে। ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ তাদের  ইচ্ছামতো ওই গেট খুলছে ও বন্ধ করছে। একারনে ক্রেতা মোটরসাইকেল বা  রিক্সায় করে মাছ কিনতে এসে গেট বন্ধ থাকার কারণে ফিরে যাচ্ছে। টাউনহল মাঠে মাছ বিক্রি কমে গেছে।সেই সাথে গেট বন্ধ থাকায় তাদের মালামাল আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়টি ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। একই কথা জানান শাহীন,শাহাবুদ্দিন সহ আরো অনেক মাছ ব্যবসায়ী। ঈদ মাঠের তরকারি ব্যবসায়ীরা জানান তাদের ত্রিপল দিয়ে দোকান নির্মান করে দেয়া হয়নি। তারা উপরে পলিথিন টানিয়ে ব্যবসা করছে। বেশি রোদ হলে তরকারি শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাঁদা পানি জমছে। এ কারণে তাদের বেচাকেনা কমে গেছে। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় অনেক তরকারি ব্যবসায়ী শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা করা শুরু করেছেন। এ কারণে মাছ ও তরকারি ব্যবসায়ীরা আগের স্থানে ফিরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন। বড়বাজার কমিটির সভাপতি মীর মোশারেফ হোসেন বাবু জানান, করোনা ভাইরাসে সংক্রমন কমাতে প্রশাসনের আহবানে  তরকারি ব্যবসায়ীরা ঈদগাহ মাঠে ও মাছ ব্যবসায়ীরা টাউন হল মাঠে এসে ব্যবসা করছে। তরকারি ব্যবসায়ীরা রোদ,ঝড় বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। মুজিব সড়ক সংস্কার কাজ চলার কারণে ইন্সটিটিউটের পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে ক্রেতা আসেন না। তারা আসেন দক্ষিন পাশের গেট দিয়ে। কিন্তু ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ ওই গেট ইচ্ছা মতো খোলা রাখছে ও বন্ধ করছে। একারনে ক্রেতা আসা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা কমে গেছে। একারণে তারা আগের স্থানে ফিরে যেতে চান। এ বিষয়টি মেয়রকে জানানো হবে। ইন্সটিটিউটরে সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান টাউন হল মাঠে মাছ বাজার বসানোর কারণে ঐতিহাসিক  টাউন হল মাঠ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আগের স্থানে ফিরে যাক। দক্ষিণ পাশের গেট খোলা রাখলে রিক্সা মোটরসাইকেল রাখায় যানজট হয় এতে করে ইন্সটিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একারনে ওই গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক তজিমুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি জেনে বলতে হবে।