আমদানি পণ্য নিয়ে প্রথম ভারতীয় কন্টেইনার ট্রেন এলো বেনাপোল

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : ভারতীয় আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল এসেছে প্রথম কন্টেইনার ট্রেন। পঞ্চাশটি সাইডডোর কন্টেইনারবাহী এই ট্রেনটি রোববার দুপুরে সিমান্তের ওপারের আনুষ্ঠিানিকতা শেষে বেনাপোলে প্রবেশ করে। দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথে স্বল্পপরিসরে আমদানি হলেও কন্টেইনার ট্রেনযোগে আমাদানির ঘটনা এটাই প্রথম। এরফলে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খরচ, সময় ও ভোগান্তি কমলো। নিশ্চিত হবে পণ্যের নিরাপত্তাও।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম আসা কন্টেইনারবাহী ট্র্রেনটিতে কন্টেইনার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ৫০ টি সাইটডোর কন্টেইনারে পি এন্ড জি বাংলাদেশ লিমিটেডসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের ৬৪০ টন পণ্য বহন করে নিয়ে আসে। এপারে কন্টেইনার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে টিসিআই বাংলাদেশ লিমিটেড ও এম এম ইন্টারন্যশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কোলকাতার মমিনপুর হতে গত শুক্রবার ২৪ জুলাই ট্রেনটি বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ট্রেনটি বেনাপোলে এসে পৌঁছায়। অথচ সড়কপথে আসতে নানা ভোগান্তির কারণে প্রায় একসপ্তাহ থেকে মাসাধিককালও লেগে যায়। আমদানিপণ্যবাহী ট্রাকগুলো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসতে নানা ভোগান্তি ও চাঁদাবাজিরও শিকার হতে হয়।

পণ্য চালানটি বেনাপোল রেলওয়ে ষ্টেশনে পৌঁছানোর পর কাগজপত্র স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত পণ্য খালাস করা হবে।

এদিকে ভারত থেকে আসা প্রথম কন্টেইনার ট্রেনটি বেনাপোল রেলস্টেশনে এসে পৌঁছালে কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্মকর্তারা সেটা গ্রহণ করেন। ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোলের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বেনাপোল হয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী ট্রেন চলাচল শুরু করেছিলেন। আজ তারই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তার বলয়ে দ্রুত ও কম খরচে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বেনাপোলে নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচন হলো।

এ সময় বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, স্থলপথে ট্রাকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ভারতীয় কিছু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মী ছিল। তাদের চাঁদাবাজিতে যেমন আটকে থাকা ট্রাকে লোকশানের শিকার হতে হতো তেমনি দ্রুত পণ্য খালাসে বিলম্ব হতো। রেল পথে পণ্য আমদানিতে এ হয়রানি থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্তি পাবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, করোনা প্রাদূর্ভাবের কারণে ট্রাকে করে ভারত থেকে চাহিদামত পন্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিলনা। এখন কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি সরকারেরও বিপুল পরিমানে রাজস্ব বাড়বে।

বেনাপোল রেলওয়ের ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, এই প্রথম সাইড ডোর রেল কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্য আমদানি হলো। এতে এপথে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বাড়বে। এছাড়া এই পণ্য আমদানির মাধ্যমে পণ্যবাহি কন্টেইনার প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে ৬৪৪০ টাকা পাবে। খালি কন্টেইনার ফিরে যাওয়ার সময় রেল কর্তৃপক্ষ পাবে কন্টেইনার প্রতি ৪৫৭৫ টাকা। সবমিলিয়ে এই পণ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এভাবে যদি ব্যবসায়ীরা রেলপথে আমদানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখে তাহলে দিনে দিনে রেলের রাজস্ব আরো বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক(ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ব্যবসায়ীরা এখন থেকে ইচ্ছে করলে সব ধরণের পণ্য কন্টেইনার রেলের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করতে পারবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, স্থলবন্দরের উপপরিচালক আব্দুল জলিল, সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন, কাস্টম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন, ব্যবসায়ি নেতা মেহেরুল্লাহ মেম্বর প্রমুখ।