মণিরামপুরের ১৭ ক্লিনিকের ১৪টি চলছে অনুমোদন ছাড়া

আব্দুল মতিন, মণিরামপুর : রোকেয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মণিরামপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে প্রায় তিন দশকের প্রতিষ্ঠান এটি। ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি। রোগী দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এমনকি অপারেশনের কাজও হর-হামেশা চলে এখানে। এতো পুরনো প্রতিষ্ঠান চলছে লাইন্সেস ছাড়া। কেবল রোকেয়া ক্লিনিক নয়, মণিরামপুর উপজেলাতে এমন ক্লিনিকের সংখ্যা এখন আরও বেশ কয়েকটি। যাদের অনেকেই রোগী দেখা থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম চালাচ্ছেন মালিক পক্ষ। সম্প্রতি এ সব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছেন। ফলে এ সব প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ কাগজপত্র ঠিক করতে তৎপর হয়েছেন।

সরকারি তথ্যমতে উপজেলায় বর্তমানে ১৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলমান আছে। এদের মধ্যে দি-প্যাথ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ল্যাব সাদ্ মেডিকেল সার্ভিসেস ও রাজগঞ্জ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লাইন্সেস রয়েছে। বাকী সব প্রতিষ্ঠান চলছে লাইন্সেস ছাড়াই চলছে। এদের মধ্যে রোকেয়া ক্লিনিক কখনোই লাইন্সেস করেনি। কুয়াদা বাজার থেকে মুন হাসপাতাল স্থান্তরিত করা হয় মণিরামপুর ব্র্যাক অফিসের সামনের একটি ভবনে। মালিক পক্ষ প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা দাবি করলেও সরকারি তথ্যে ওই প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই । প্রগতি ডিজিটাল ল্যাব এন্ড রিজু হাসপাতাল চলছে মোহনপুর ইসলাম মার্কেটে। প্রতিষ্ঠানটির বয়স অল্পদিন হলেও তাদের বর্তমান ব্যবসা চলছে রমরমা । কে, সি সার্জিক্যাল এন্ড শিশু হাসপাতাল মশিয়াহাটিতে। কাগজপত্রের কোনো প্রয়োজন পড়েনি প্রতিষ্ঠানের মালিক ডা. প্রশান্ত কুমার বিশ্বাসের। কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি বাঁকড়া অঞ্চলে। মণিরামপুরের আওতাধীন এ প্রতিষ্ঠানটিও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চালাচ্ছেন মালিক মোঃ আব্দুর রশিদ। রাজগঞ্জ তফি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারও চালাচ্ছেন বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। জিনিয়া প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠানটি মণিরামপুর হাসপাতালের দোরগোড়ায়। কাগজপত্র ছাড়াই এ প্রতিষ্ঠানটিও চালাচ্ছেন মালিক। অভিযোগ উঠেছে এসব প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন লাইন্সেস ছাড়াই চালালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া নেয়নি কেউই। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেছেন এ কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে সময় দিয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর বৈধ কাগজপত্র না থাকলে বন্ধ করে দেয়া হবে।