যশোরে আক্রান্ত ১৬০০ পার

বিল্লাল হোসেন: যশোরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ নারী ও উপসর্গে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার যশোর জেলায় নতুন ৬৩ জনসহ জেলায় আর আক্রান্ত ১৬০০ পার হয়েছে। রোববার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪ জন।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, রোববার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে পাঠানো ২৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৬৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এরমধ্যে ১ জন পুরাতন রোগী রয়েছেন। ফলোআপ নমুনা পরীক্ষায় তার পজেটিভ এসেছে। নতুন শনাক্ত ৬৩ জনের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ২৩ জন, শার্শা উপজেলায় ৩ জন, চৌগাছা উপজেলায়  ২ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায়  ১৬ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১ জন ও অভয়নগর উপজেলায়  ১৪ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১ জন ও কেশবপুর উপজেলায় ৩ জন।  ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানান, এদিন নতুন করে ৪২ জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে আরও ২০০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য যবিপ্রবির জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মিতু রানী (৩৯)। তিনি সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের পাকাসিয়া গ্রামের  বিষ্ণু বিশ্বাসের স্ত্রী। তার মৃত্যুর বিষয়টি রোববার রেকর্ড করা হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রন) ডা, এএনএম নাসিম ফেরদৌস জানান, নতুন করে আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে ৫ জনকে অন্য জেলায় রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের নমুনা সদর উপজেলা থেকে দেয়া হলেও বাড়ি অন্য জেলায়। এছাড়া ৭ জন রোগীর হদিস পাওয়া যায়নি। নমুনা আবেদনে উল্লেখ করা মুঠোফোনের নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ১১ জন হলেন ঘোপ জোড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ১ জন সেবিকা , লিচুবাগার এলাকায় বসবাসকারী পুলিশের ১ জন এএসআই, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ জন  পুরুষ কর্মচারী, লোন অফিস পাড়ার ১ জন ব্যবসায়ী, পালবাড়ি এলাকার ১ জন কলেজ ছাত্র, এসপি বাংলো এলাকার ১ জন পুরুষ, আশ্রমরোড এলাকার  ১ জন শিক্ষক , বেজপাড়া নলডাঙ্গা এলাকার ১ জন পল্লী চিকিৎসক, রুপদিয়া গ্রামের ১ জন মাদ্রাসা শিক্ষক ও পাকাসিয়া গ্রামের ১ জন নারী।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.আরিফ আহমেদ জানান. হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান মিতু রানীর । জ্বর, ঠান্ডা, কাঁশি , শ্বাসকষ্টসহ করোনার সকল উপসর্গ নিয়ে বুধবার রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে ভর্তি হয়ে তিনি ওয়ার্ডে আসেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিলো। তার ফলাফল তার পজেটিভ এসেছে। ডা. আরিফ আহমেদ আরো জানান, শনিবার রাতে পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুল হকের (৭৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি চৌগাছা উপজেলা দশপাখিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। করোনার উপসর্গ নিয়ে শনিবার দুপুরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। মারা যাওয়ার পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে ফজলুল হক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা। আরএমও আরো জানান, ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪ জন নারী পুরুষ মারা গেছেন। নমুনা পরীক্ষায় তাদের মধ্যে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের।

যবিপ্রবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন,

জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৬৪ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ১৮ নমুনা পরীক্ষায় ৮ জন,সাতক্ষীরা জেলার ৩০ নমুনা পরীক্ষায় ৬ জন ও বাগেরহাট জেলার  ৩৯ নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের  শরীরের কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ৩২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৪ জনের করোনা পজিটিভ এবং ২৩৬ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে রোববার পর্যন্ত জেলার করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬২৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮৯৭ জন।