করোনাকালের পবিত্র ঈদুল আজহা শনিবার

 

স্পন্দন ডেস্ক :  আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। বাঙালি সমাজে কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত মুসলমানদের এই অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।  স্থানীয় হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী শুক্রবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের মতো কোরবানীর ঈদও মানুষের কাছে ভিন্নরকম। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষ ঈদ আনন্দ কতটুকু করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অথচ ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো। ঈদ মানে কোলাকুলি, করমর্দন। ঈদ মানে প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়াদাওয়া, আড্ডা দেওয়া। নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্র হওয়া। নতুন জামাকাপড় পরা। কিন্তু এবার সেই অনাবিল আনন্দের আবহ নেই। খুশির জোয়ারও নেই। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এবার তেমন কেনাবেচাও হয়নি পশু। অধিকাংশ মানুষ কোরবানী দিচ্ছেনা।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, বন্ধু, প্রতিবেশীসহ প্রিয়জন হারানোর ব্যথা এখনো মুছে যায়নি। যাদের স্বজন হাসপাতালে রোগ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তাদের জন্য নিশ্চয় এবারের ঈদ খুশি বয়ে আনতে পারেনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধিকাংশ মানুষই ঘরবন্দি। স্বজনদের কাছ থেকে দূরে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে শনিবার পালিত হবে ঈদুল আজহা।

তারপরও দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টলাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেবেন।

বিশ্বের মুসলিমরা ১০ জিলহজ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে ১১ ও ১২ জিলহজও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে।

ঈদুল আজহা ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন।

আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবাই সম্পন্ন করেন, তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই ইব্রাহিমের (আ.) ওয়াজিব হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামী শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব।

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসব বাণীতে তারা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ, জাতিসহ গোটা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন।

জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশুসদনে উন্নত বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকটি ঈদের নামাজের জামাত হবে। প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে। ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।

প্রতিবছর সবাই দল বেঁধে ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে যায়। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, করমর্দন, কোলাকুলি করে। কিন্তু করোনার স্বাস্থ্যবিধি এবার সেটা হতে দিচ্ছে না। এবার উন্মুক্ত স্থানে জনসমাগম করা যাবে না। ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে। মসজিদে মসজিদে সময় ভাগ করে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া  হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই নামাজ আদায় করতে হবে।

আলেমরা বলছেন, ঘরে বসেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে। সব ক্ষেত্রেই বিরত থাকতে হবে কোলাকুলি ও করমর্দন থেকে।

ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীর বাড়িতে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সেই রেওয়াজও পালিত হবে না এবার। নতুন জামাকাপড় কেনেনি অনেকেই। ঈদের মেলা নেই কোথাও। প্রতিবছর শাড়ি মেলা, পাঞ্জাবি মেলাসহ বিভিন্ন প্রকার মেলা বসে ঈদ ঘিরে।

ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেকেই যায় বিনোদনকেন্দ্রে। এবার সেটাও বন্ধ।