যশোর বড় বাজারে ফিরে গেলো সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীরা !

মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর ঈদগাহ মাঠের সবজি ব্যবসায়ীরা পূর্বের স্থানে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। একই সাথে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী টাউন হল মাঠ ছেড়ে বড়বাজারে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে ব্যবসায়ীদের বড়বাজারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও ইজারাদার কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে যশোর জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে ৩০ এপ্রিল  বড় বাজারের মাছের দোকান টাউন হল মাঠে ও তরকারির দোকান ঈদগাহ মাঠে বসানো হয়। সেখানে ব্যবসায়ীরা তিনমাস ধরে ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু ঈদুল আজহার পরের দিন ঈদগাহ মাঠের তরকারি ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে ফিরে গেছেন আগের জায়গায়। আবার কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন স্থানে তরকারি বিক্রি শুরু করেছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঈদগাহ ময়দান থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তরকারি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ কুন্ডু জানান, ঈদগাহ মাঠে বেচাকেনা ভাল হতো না। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে সেখানে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যেতো। তখন ক্রেতাদের দাঁড়ানোর জায়গা থাকতো না। সেই সাথে রোদে তরকারি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বেচাকেনা ভাল হতো না। টাকা দিয়ে মাল কিনে লোকসান হতো। এ কারণে আমরা আগের স্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি।  মজনু ও ইনতাজ নামে দুইজন তরকারি ব্যবসায়ী জানান ঈদগাহ মাঠের চেয়ে আমাদের আগের স্থানের পরিবেশ ভাল। এ কারণে বেচাকেনা ভাল হচ্ছে। কিন্তু ঈদগাহ মাঠের পরিবেশ বেচাকেনার জন্য ভাল ছিল না।  তিনমাস ধরে সেখানে ব্যবসায়ীরা দোকান বসালেও ভাল বিক্রি কোন দিনই হয়নি। একই কথা জানান আসলাম হোসেন ,আশরাফ হোসেনসহ কয়েকজন তরকারি ব্যবসায়ী। এদিকে ৭ থেকে ৮জন মাছ ব্যবসায়ীও আগের স্থানে ফিরে গিয়ে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে। জিহাদ হোসেন নামে একজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, টাউন হল মাঠে ব্যবসা করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেখানে মালামাল নিয়ে যাওয়ায় খরচ বেশি পড়তো। পাশাপাশি  বরফ গলে যাওয়ায় বারবার বরফ নেয়ায় খরচ বেশি পড়তো। কারণ বরফ ছাড়া মাছ নষ্ট হয়ে যেতো। সেখানে খরচ যদি হতো ১ হাজার টাকা কিন্তু আমাদের আগের স্থানে খরচ হচ্ছে ৫শ টাকা। সেই সাথে ব্যবসা করে শান্তি আছে। একই কথা জানান ফারুক নামে আরেকজন মাছ ব্যবসায়ী।

বড়বাজার কমিটির সভাপতি মীর মোশারেফ হোসেন বাবু জানান, ঈদমাঠের ব্যবসায়ীরা আগের স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়টা আমার জানা নেই। ব্যবসায়ীরা তাদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে চলে গেছে। তবে সব ব্যবসায়ী আগের স্থানে ফিরে যায়নি। এদের মধ্যে কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন স্থানে তরকারি বিক্রি শুরু করেছে। তাদের  অনেক বোঝানো হয়েছে তারা শোনেননি।

যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু জানান, ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা ছাড়া পূর্বের স্থানে ফিরে গিয়ে ঠিক করেননি। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক তজিমুল ইসলাম খান বলেছেন  তরকারি ব্যবসায়ীদের আগের স্থানে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এমনকি তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়াও হয়নি। আলোচনা সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি ব্যবসায়ীরা পূর্বের স্থানে চলে যেয়ে থাকে এ বিষয়টা দেখা হবে।