লোহাগড়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হাত-পা  বিচ্ছিন্নের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি  : লোহাগড়ায় পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকে কুপিয়ে হাত পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় ১৮জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী।

জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে লোহাগড়া পৌর সভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও খলিশাখালি গ্রামের মৃত মান্নান মোল্যার ছেলে জলিল মোল্যাকে (৫০) গত ২৭ জুলাই সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে একটি হাত বিচ্ছিন্ন ও একটি পা অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে খুলনাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী অম্বিয়া বেগম বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত রশিদ কাজীর ছেলে সাহিদ কাজীকে প্রধান আসামি করে ৩১ জুলাই লোহাগড়া থানায় ১৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

উল্যেখ্য, ১৭ জুলাই খলিশাখালি জামে মসজিদের ব্যাটারি চুরির ঘটনায় জলিল মোল্যার ভাতিজা সুলতান মোল্যাকে পুলিশ ব্যাটারিসহ আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এ ঘটনা নিয়ে বিবাদমান দু’টি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই গ্রামের জহুর কাজী সমর্থিত লোকজনের মধ্যে জলিল মোল্যা সমর্থিত লোকজনের প্রায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জের ধরে বিগত ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জহুর কাজীর ভাই আশরাফ কাজী খুন হয়। খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসরিন বেগম বাদী হয়ে পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি জলিল মোল্যাসহ ৩৩ জনের নামে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জহুর কাজী পরিচালনা করতেন। মামলা চলা কালিন প্রতিপক্ষরা ২০১৫ সালের ১৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় জহুর কাজীর ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জহুর কাজী বাদী হয়ে ২১ আগষ্ট প্রতিপক্ষ জলিল মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বিএনপি নেতা জলিল মোল্যার ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: টিপু সুলতানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

লোহাগড়া থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম, মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।