চৌগাছায় অবৈধ চার ক্লিনিক বন্ধ :  দুই ভুয়া চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে আগুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পল্লবী ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার যশোর সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া মধুমতি প্রাইভেট হাসপাতাল ও নোভা এইড হাসপাতাল কর্তপক্ষকে লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মীর আবু মাউদ জানান, অভিযানের সময় পল্লবী ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভুয়া চিকিৎসক মিজানুর রহমান ও জাকিরুল ইসলামের ব্যবস্থাপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ফের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডা. মীর আবু মাউদ জানিয়েছেন, অভিযানকালে দেখা যায়, কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়গনস্টিক ও পল্লবী ক্লিনিককে লাইসেন্স নবায়ন না করেই বছরের পর বছর অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিলো। প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা নেই। চিকিৎসাসেবার নামে রীতিমতো মহাপ্রতারণা চলছিলো। অভিযানকালে নানা অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যে কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো প্রকার কার্যক্রম চলবে না। ডা. আবু মাউদ আরো জানান, অভিযানের সময় দেখা যায় পল্লবী ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কোন ডিগ্রি নেই। তারপরেও তিনি ব্যবস্থাপত্রে নামে আগে চিকিৎসক লিখে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। এই দুই ভুয়া চিকিৎসকের ২ হাজার ব্যবস্থাপত্র উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এসময় চিকিৎসকক পরিচয়ে ব্যবস্থাপত্র না দেয়ার জন্য মিজানুর রহমান ও জাহিদুর রহমানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পল্লবী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ১৫ রোগীকে চৌগাছা উপজেলা মডেল হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলা হয়।

ডা. মীর আবু মাউদ আরো জানান, অবৈধ মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিকের ফ্রিজে মাংস ও রক্তের ব্যাগ রাখা হয়েছে। সেখানকার পরিবেশ অনেক নোংরা। কয়েকটি কক্ষে ব্যাঙ লাফালাফি করলেও কর্তৃপক্ষের সেদিকে খেয়াল নেই। অস্ত্রোপচার কক্ষে নাজুক  অবস্থা। তিনি জানান, নোভা এইড প্রাইভেট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ সেবিকা সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধান করতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া মধুমতি প্রাইভেট হাসপাতালের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি পক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসা পরিবেশ মোটামুটি সন্তোষজনক। এরপরেও  লাইসেন্স ও ছোট খাটো নানা অনিয়ম সংশোধনের জন্য মালিক পক্ষকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুজ্জামান,সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ, যশোর সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পার্থ প্রতিম লাহিড়ী ও চৌগাছা থানা পুলিশ সাথে ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই থেকে যশোর জেলার অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান শুরু হয়। ৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৬ টি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।