যশোরে একদিনে করোনা শনাক্ত ৫১, সুস্থ ৩৮

বিল্লাল হোসেন : যশোরে একই পরিবারের ৩ জনসহ নতুন করে ৫১ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে সোমবার পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২৫৯ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ।

ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, সোমবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে পাঠানো ১৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৫০ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এদিন ঝিনাইদহ থেকে আরো ১ জনের পজেটিভ ফলাফল পাঠানো হয়েছে। সেই হিসেবে নতুন করে ৫১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ২৮ জন, শার্শা উপজেলায় ৪ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬ জন, চৌগাছা উপজেলায় ৪ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ২ জন ও কেশবপুর উপজেলায় ৭ জন।

ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানান, এদিন করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১৪০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে ৩৮ জন সুস্থ হয়েছেন বলে জানান ডা. রেহেনেওয়াজ।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান ইমতিয়াজ জানান, আাক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম কাজল (৫১), হিসাবরক্ষক কামরুজ্জামান (৫০), যশোর মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট খাইরুল ইসলাম (৪২), শেখহাটি এলাকার বাসিন্দা যশোরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারী হাফিজুর রহমান (৫০), তার পরিবারের সদস্য লামিয়া (১৩) ও হাবিবুর রহমান (১৭) ও পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকায় বসবাসকারী পুলিশ সদস্য সোহেল রানা (২৪)। আক্রান্তের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। হাফিজুর রহমান ছাড়া বাকিরা হোমআইসোলেশনে রয়েছেন।

যবিপ্রবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোর জেলার ৫০ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ৭০ নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জন ও নড়াইল জেলার ৯ জনের নমুনা পরীক্ষা ৩ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ২৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৭ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৯৭ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত জেলার ১০৫০৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল এসেছে ৯২০২ জনের। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ ২২৫৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩০৮ জন। এছাড়া ৩২ জন নারী পুরুষের মৃত্যু হয়েছে।