সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করছে : সিটি মেয়র

খুলনা প্রতিনিধি  : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এ সরকারের আমলেই দেশের সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করে যাচ্ছে। যা এ দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অত্যন্ত চমৎকার। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নগর শাখার উদ্যোগে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিটি মেয়র বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ স্থাপন এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। শ্রীকৃষ্ণ আজীবন শান্তি, মানবপ্রেম ও ন্যায়ের জন্য কাজ করে গেছেন। আমাদের সংবিধানে সকল মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ, অসহায়, শ্রমজীবী মানুষকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন খাদ্যসহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্যবিধি মানা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সবসময় মাস্ক ব্যবহার করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের পক্ষে তার ব্যক্তিগত কর্তকর্তা ড. মোঃ সাইদুর রহমান এবং মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ড। এসময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে একশ’ ৫০ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে আট কেজি করে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন।

অপরদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সনাতন ধর্মালম্বী মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এবং ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।