করোনাভাইরাস : দেশে মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার

বিডিনিউজ : দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর পাঁচ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে গেল, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়াল দুই লাখ ৬৬ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫১৩ জন।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ৯৯৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৮ জনে।

আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ১১৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন হয়েছে।

বুধবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন বন্ধ হওয়ার পর এটাই ছিল প্রথম বিজ্ঞপ্তি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা আড়াই লাখ পেরিয়ে যায় গত ৭ অগাস্ট। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৮ জুলাই সেই সংখ্যা তিন হাজার স্পর্শ করে। বুধবার তা সাড়ে তিন হাজার ছাড়াল।

এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় বুলেটিনে, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। ৩৯ জন হাসপাতালে এবং ৩ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

তাদের ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন বরিশাল বিভাগের, ৪ সিলেট বিভাগের, ২ জন রংপুর বিভাগের এবং ২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩ হাজার ৫১৩ জনের মধ্যে ২ হাজার ৭৮২ জন পুরুষ এবং ৭৩১ জন নারী।

তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬৬৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৯৯৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪৮০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২২৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৯১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩৪ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮১ জন ঢাকা বিভাগের, ৮১৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২২৬ জন রাজশাহী বিভাগের, ২৭১ জন খুলনা বিভাগের, ১৩৫ জন বরিশাল বিভাগের, ১৬২ জন সিলেট বিভাগের, ১৪১ জন রংপুর বিভাগের এবং ৭৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৬টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৭৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৭৩৯টি।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।