ডুমুরিয়ায় দু’সপ্তাহ দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ  অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া : খুলনার ডুমুরিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত অফিসার না থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে সকল প্রকার দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় লেখকদের পাশাপাশি জমি ক্রেতা-বিক্রেতারাও চরম ভোগান্তি পড়েছেন।   আর এতে অর্ধ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা সদর সংলগ্ন উপজেলা হওয়ায় এখানকার জমি-জমা’র কেনা-বেচার হার অনেক বেশি। ৪ লক্ষাধিক মানুষের সমগ্র উপজেলায় ২’শ ৪টি মৌজায় ১ লাখ ১১ হাজার ৭’শ একর জমি থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জমি কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

বৈশ্মিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দশনা মোতাবেক চলতি বছরের ২৩ মার্চ থেকে সকল প্রকার দলিল রেজিষ্ট্রির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে সরকারের আর এক আদেশে ২১ জুন থেকে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে আবারও রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় ডুমুরিয়া রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো নিয়মিত অফিসার না থাকায় তেরোখাদা উপজেলার সাব-রেজিস্টার আকরাম হোসেন রিয়াদ ডুমুরিয়া অফিসে খণ্ডকালিন দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। তিনি ওই সময় সপ্তাহে রোব, সোম ও মঙ্গলবার এই ৩দিন রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম চালাতে থাকেন। প্রতিদিন ১’শ থেকে ১’শ ৩০টি দলিল রেজিষ্ট্রি হওয়ায় সরকারের রাজস্ব খাতে আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক টাকা জমা হয়। এ ভাবে গত ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১২ দিনের কার্যক্রমে ৭’শ ৬২টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। আর তাতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা সরকারের ঘরে জমা হয়েছে। কিন্তু ২৮ জুলাই’র পর থেকে সাব-রেজিস্টার না থাকায় সকল প্রকার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আর এতে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৭ জন সনদপত্রধারী দলিল লেখকের পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকজন লেখকের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। আর সরকার অর্ধ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়ার দলিল লেখক নেতা ফারুক খান বলেন, আমাদের এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ ডুমুরিয়া উপজেলায় একজন নিয়মিত সাব-রেজিস্টার থাকা একান্ত জরুরি প্রয়োজন। যিনি সপ্তাহের ৫ দিন রেজিস্ট্রি করতে পারেন। ডুমুরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার আকরাম হোসেন রিয়াদ বলেন, আমি ছুটিতে আছি। আগামী সপ্তাহ থেকে রেজিস্ট্রি চলবে।