নানা ভোগান্তির অভিযোগ যশোর শিক্ষাবোর্ডে আসা সেবা প্রত্যাশীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শিক্ষা বোর্ডে নানা রকমের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। করোনা পরিস্থিতির দোহায় দিয়ে ভোগান্তি আরো চরমে পৌঁছেছে। বোর্ড সংশ্লিষ্ট না এমন মানুষের আনাগোনায় কোন বিধি নিষেধ না থাকলেও সেবা প্রত্যাশীদের নানা নিয়মনীতি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে এক ঘণ্টার কাজ ৫ ঘণ্টা, একদিনের কাজ এক মাস লেগে যাচ্ছে। আবার কোন যোগাযোগ না থাকলে কাজই হচ্ছে না। করোনার দোহায় দিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বোর্ডে কাজে আসা শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কয়েকজন ভুক্তভোগি দৈনিক স্পন্দনের কাছে অভিযোগও করেছেন।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে একস্থানে বেশি মানুষের ভিড় বা উপস্থিতি থাকবে না এমন নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের। তবে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না যশোর শিক্ষা বোর্ডে। প্রতিদিন বোর্ডের বারান্দায় অনেক মানুষের ভিড় থাকে। বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পর ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশিদের। বোর্ডের লোকজনের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। যদি কোনো ভাবে কাগজ সংশ্লিষ্ট দফতরে না পৌঁছায় তাহলে সেবা প্রত্যাশীর ভোগান্তির কোন সীমা থাকে না। গেটে কাগজপত্র জমা দিয়ে বারান্দায় ‘চাতক পাখির’ মতো চেয়ে থাকতে হয় সেবা পাওয়ার জন্য। ফলে ভিড় জমছে লোকজনের।

জানাগেছে বোর্ডে মার্কশিট যাচাই বাছাইয়ের কাজ করতে সময় লাগে এক থেকে দুই ঘন্টা। কিন্তু পটুয়াখালী থেকে আসা সমীর কুন্ডু সেই কাজ করার জন্য গেটে কাগজপত্র জমা দিয়ে চারঘন্টা পর তাকে সেবা পেতে হয়েছে।

যশোর শহরের বেজপাড়ার আকাশ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নাম সংশোধনের জন্য সব নিয়মনীতি মেনে গত জুলাই মাসের ৫ তারিখে বোর্ডের গেটে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। একমাসেও কোনো ফলাফল পাইনি। একমাস পর গত ৫ আগস্ট অন্য লোকমারফত যোগাযোগ করে নিজের কাজটি সম্পন্ন করি। আমি গেটে যে কাগজ জমা দিয়েছিলাম তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পৌঁছায়নি। ফলে ফের আবেদন করতে হয়েছিল।

বাগেরহাট থেকে আসা মৃদুল কুমার কুন্ডু জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভেতরে ঢুকতে দিলে ভোগান্তি কম হয়। কিন্তু বোর্ড চেয়ারম্যানের ভেতরে ঢোকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থবিধি মেনে ভেতরে ঢুকে কাজ করার সুযোগ করে দিলে ভোগান্তি কম হতো বলে মনে করেন মৃদুল কুন্ড্।ু একই মন্তব্য করেছেন বোর্ডে কাজ করতে আসা আব্দুর রহিম নামে এক শিক্ষক। তিনি প্রশ্ন রেখে আরো জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, থানা, আদালতসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যেখানে কাজের জন্য স্বাস্থবিধি মেনে অবাধে যাওয়া যাচ্ছে সেখানে যশোর শিক্ষাবোর্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কেন?

যশোর শিক্ষাবোর্ডের কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন, অফিসের কমন শাখায় প্রায় সময় বাইরের লোক এনে সার্টিফিকেট পোস্টিং টেবিলেশন বই লেখানো হচ্ছে। অথচ সেবা প্রত্যাশিরা থাকছে বাইরে। বোর্ডে গাড়ি চালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন দুলাল নামে এক ব্যক্তি। এখন তার দেখা মেলে না। তার ছেলে আল-আমিন বোর্ড চেয়ারম্যানের গাড়ি চালাচ্ছেন। তারও যথেচ্ছাবার ঘোরাফেরা রয়েছে বোর্ডে।

শিক্ষাবোর্ডের পাশের শেখহাটি নামক স্থানের একজন ঠিকাদার ইচ্ছানুযায়ী বোর্ডে যাতায়াত করে থাকেন। তাকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয় না। মানতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশিদের। এই সব দেখে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেছেন, বোর্ডের অনেক কাজ আছে যা প্রার্থীকে স্বশরীরে না আসলেও হয়। অন লাইনে আবেদন করলেই হবে। তবে বোর্ড মিটিং ছাড়া করোনা পরিস্থিতি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। যে কারণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নাম সংশোধন, বয়স সংশোধনের জন্য বোর্ডে আসার প্রয়োজন হয় না। অনলাইনে আবেদন করলেই হয়। তবে অনেকে আবেদনে ভুল করেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাজের সুবিধার জন্য মিটিং জরুরি আগামি চার মাসে কোন মিটিং হয়নি। করোনার কারনে মিটিং ডাকা যাচ্ছে না। তবে আগামী সপ্তাহে সভা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেছেন বোর্ডের অভ্যন্তরে বিনা অনুমতিতে অবাধে ঢোকার কোনো নিয়ম নেই। কেউ যদি প্রবেশ করে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।