যশোরে তিন আন্তঃজেলা চোর আটক, ১৮ ইজিবাইক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোরচক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। এদের মধ্যে দুজনকে গোপালগঞ্জ থেকে এবং একজনকে কুষ্টিয়া থেকে আটক করা হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি ইজিবাইক, ৭০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ৯টি মোবাইল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন সিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম, ডিবির নতুন ওসি সোমেন দাস, এসআই মফিজুল ইসলাম, এসআই শামীম হোসেন প্রমুখ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আটক তিনজন হলো বরগুনার তালতলী উপজেলার বাইজুরা গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব ফারজীর ছেলে আলম ফারাজী ওরফে মহারাজ (৪৪), যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর মধ্যপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৮) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার  মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে মেজর (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার  মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, গত ২৯ জুলাই যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া জঙ্গলবাঁধাল এলাকার একটি বাড়িতে এক ব্যক্তি ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে লোকজন ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ নেই। পরে লোকজন পুলিশে সংবাদ দিলে ঘরের তালাভেঙে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। জীবিত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২ আগস্ট তার জ্ঞান ফেলে। সে সময় তিনি নিজেকে নড়াইল সদর উপজেলার চাকই গ্রামের মৃত নওশেদ গাজীর ছেলে রফিজ গাজী (৪০) বলে পরিচয় দেন।

তিনি (রফিজ গাজী) পুলিশকে জানান, গত ২৭ জুলাই অভয়নগরের দেয়াপাড়া ব্রিজের কাছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় নিজেরা মোবাইল নম্বর আদান প্রদান করেন। পরদিন মোবাইল করলে রফিজ ইজিবাইক নিয়ে ওই ব্রিজের কাছে যান। সেখানে একজন তার ইজিবাইকে উঠে। যাত্রী নিজেকে মাছের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। বলে বেশ কয়েকদিন ইজিবাইকটি ভাড়া লাগবে। তারা ওই দিন ইজিবাইকে ঘোরাফেরা করেন। দুপুরে জঙ্গলবাঁধাল এরাকার ভাড়াবাড়িতে চালককে নেয়।  সেখানে খাওয়ার প্রস্তুাব দিলে চালক তাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। এরপর আর কিছু বলতে পারে না। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ওই ব্যক্তি ইজিবাইক নিয়ে চম্পট দেয়।
প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়, পুলিশ বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গোপালগঞ্জে প্রতারকদের সন্ধান পায়। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাবাড়িয়া উপজেলার ওয়াজেদ আলী মুন্সির একটি গোডাউন থেকে আলম ফারাজী ও রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে সেখান থেকে আরও একজন  ভিকটিম ইজিবাইক চালক ইমরান শেখকে (২০) উদ্ধার করে পুলিশ। ইমরান গোপালগঞ্জের কালজিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ শেখের ছেলে। পুলিশ প্রতারক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কুষ্টিয়ার মিজানুর রহমান ওরফে মেজরের সন্ধান পায়।  গত ১২ আগস্ট কুষ্টিয়া গিয়ে মেজরের গোডাউন তল্লাশি করে আরও ১৫টি চোরাই ইজিবাইক জব্দ করা হয়। এছাড়া যশোর থেকে খোয়া যাওয়া আরও তিনটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেছেন, যশোরের ইজিবাইক চালকদের আরও একটু সতর্ক থাকতে হবে। দেখে শুনে ভাড়া নিতে হবে। অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু না খাওয়া ভাল। এতে বিপদ এড়ানো যাবে। আটক তিনজনকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।