আমরা বঙ্গবন্ধুর ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না …… শেখ আফিল উদ্দিন এমপি


শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল :
যশোর-১ ( শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশে জন্মেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করতে পারছি। দেশের সকল সরকারি বে-সরকারি চাকরিতে যোগ্যতানুযায়ী চাকরি করতে পারছি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হতে পারছি। আমার মতো আফিল উদ্দিন আজ সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য দিতে পারতাম না। আমি কেন! আমার দেশের কোনো মানুষ মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারতনা। দেশের ভালো কোনো চাকরি করতে পারত না। বড় জোর আমার মতো ছেলে কোনো পিয়ন পোস্টে চাকরি করত।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় শার্শা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আয়োজনে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার বর্গের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৫ আগস্ট পালনের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে একথা বলেন তিনি।
শার্শা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় শেখ আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে বাঙালী জাতির জন্য যে লাল সবুজের পতাকা উপহার দিয়ে গেছেন তা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা বঙ্গবন্ধুর ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। তারপরেও একাত্তরের নীল নকশার রুপকার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পেতাত্মারা এদেশে দৃশ্যমান হয়ে থেকে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর দয়া গ্রহণ করেছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুর মমতাকে ছুড়ে ফেলে বুলেটের নির্মম আঘাতে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছিলেন বাঙালী জাতির মানবিকতা। এ ঘৃণা কার। এ কলঙ্ক কাদের? একদিকে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আমরা যেমন বিশ্বের দরবারে বীরের জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি তদ্রুপ কিছু কুলাঙ্গারের কারণে বিশ্ববাসী আমাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখে। তারা বলে, তোরা জন্মদাতা পিতাকে হত্যা করেছিস। হত্যা করেছিস বঙ্গমাতাসহ তাঁর পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে। তোরা কি মানুষ?
এ সময় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এখনও একাত্তরের সেই হায়েনার দলের বংশধররা বিরাজমান। তারা বিভিন্ন ছলচাতুরি করে বিভিন্ন দল গঠনসহ বঙ্গবন্ধুর যতেœ গড়া আওয়ামী লীগের সাথে মিশে আছে। তারা চাই যে কোনোভাবে এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে। তাই, এখনই এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। এরা সতর্ক। এরা হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো বাঁশি বাঁজিয়ে এদেশের কোমলমতি মানুষদের জিম্মি করে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই এখনই সময়, আমরা একযোগে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। রক্ষা করব বঙ্গবন্ধুর লাল সবুজের পতাকার মান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ সালেহ আহমেদ মিন্টু, যুগ্মসম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদ আসিফ-উদ-দৌলা অলোক, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার নাসির উদ্দিন ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু।
বর্ধিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান ঘেনা, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, সদর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোরাদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবল হোসেন রাসেল, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহাজ্জেল হোসন, সাধারণ সম্পাক সাহিদুজ্জামান শহীদ, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ডিহি ইউপি চেয়াম্যান হোসেন আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আয়নাল হক, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আযাদ, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ইলিয়াস কবির বকুল, কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, গোগা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দ।