গাঁজাসহ আটক আসামিকে নিয়ে উপশহর ফাঁড়ি পুলিশের নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর উপশহর থেকে গাঁজাসহ জন নামের এক আসামিকে আটকের পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে উপশহর ক্যাম্পের পুলিশ আটকের বিষয়টি সারাদিনই গোপন রেখে অর্থবাণিজ্যের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক ও পরে জরিমানায় মুক্ত জন উপশহর বাদশাহ ফয়সাল ইসলামি ইন্সস্টিটিউটের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আছহাবুল গাজীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপশহর বাদশাহ ফয়সাল স্কুলের পেছন থেকে উপশহর ফাঁড়ির এএসআই শাহাবুদ্দিন ১শ গ্রাম গাঁজাসহ জনকে আটক করেন। জনকে আটকের বিষয়টি এলাকায় প্রচার হয়ে যায়। পরে তিনি (এএসআই শাহাবুদ্দিন) ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাইফুল মালেককে অবহিত করেন।

ওই এলাকার একটি সূত্র জানায়, আটক জনকে ছাড়াতে তার পিতা আছহাবুল গাজী  ও এক স্কুলের শিক্ষক উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের যান। এএসআই শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল মালেকের সাথে দেন দরবার চলে। এক পর্যায়ে জনকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৪০ হাজার টাকার রফায় জনকে পুলিশ ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে। বিষয়টি সংবাদকর্মীরা জানার পর ফোন দেয়া হয় ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল মালেককে। এসআই সাইফুল মালেক আটকের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি সাংবাদ কর্মীদের বলেন, ‘আমি একটি মার্ডার মামলা নিয়ে ব্যস্ত আছি। আটকের বিষয়ে কিছু জানি না।’

এরপর এএসআই শাহাবুদ্দিনের কাছে ফোন দেয়া হলে তিনিও টালবাহান করেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটু বাইরে আছি পরে জানাচ্ছি।’ প্রায় এক ঘণ্টা পর একাধিক বার ফোন দেয়ার পর তিনি জানান, এসআই সাইফুল মালেক স্যার ফাঁড়িতে আছেন; ওনার কাছে ফোন দেন।’ পরে এসআই সাইফুল মালেকের কাছে ফোন করা হলে তিনি গাঁজাসহ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পরে বিষয়টি পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পারলে এসআই সাইফুল মালেকের অর্থবাণিজ্য ভেস্তে যায়। রোববার ১৬ আগস্ট সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেনের কাছে জনকে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট ৫ হাজার টাকা জারিমানা করেন এবং জরিমানা দিয়ে মুক্ত হয় জন।