মাথায় আঘাতজনিত কারণেই তিন বন্দি কিশোরের মৃত্যু


# স্থায়ী বরখাস্ত সাইকো কর্মকর্তা, নয়া তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আঘাতজনিত কারণেই তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায় বলেছেন, তিন কিশোরের মরদেহের পায়ে, পিঠে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। মূলত মস্তিস্কে আঘাতজনিত কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যশোরের সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তা যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রের সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে ওই কেন্দ্রর আটক তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
গত ১৬ আগস্ট সমাজসেবা অধিদফতরের চাইল্ড সেনসিটিভ সোস্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি) প্রকল্প ফেইজ-২ এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ডা. আশরাফী আহমদ স্বাক্ষরিত ওই বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, হৃদয় বিদারক ঘটনা সম্পর্কে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি (মুশফিকুর রহমান)। সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর হিসেবে কাউন্সেলিং প্রদান ও শিশু সুরাক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদানেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এছাড়া গত ১৩ আগস্ট তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। এ কারণে পেশাগত আচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মুশফিকুর রহমানকে ১৩ আগস্ট থেকে বরখাস্ত করা হলো।
অপর দিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছেন জাকির হোসেন। তিনি সমাজসেবা অধিদফতরের খুলনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারি পরিচালক।
গত বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মকর্তা ও বন্দি কিশোরদের নির্যাতনে তিন কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), রাসেল সুজন (১৮) ও নাইম হোসেন (১৭) নিহত হয়। আহত হয় আরোও ১৫ কিশোর। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি কিশোরদের দুই গ্রুপের মারামারি বলে বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পরে আহতদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে যে, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে নিহত রাব্বির পিতা রোকা মিয়া বাদি হয়ে যশোর কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশে এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ওই ৫ কর্মকর্তাকেই সমাজসেবা অধিদপ্তর সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
এদিকে, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ গ্রেফতার ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় ওই পদে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলনার সহকারী পরিচালক জাকির হোসেনকে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি সেখানে যোগদান করেছেন বলে যশোর সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. রোকিবুজ্জামান জানান, ৩ বন্দি কিশোর হত্যার মামলায় আটক কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুক ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৫ আগস্ট ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। এরপর তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে বন্দি হত্যার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার এই দুই কর্মকর্তার রিমান্ড শেষ হওয়ায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি জানান, আটক তত্ত্বাধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ আরও ৩ কর্মকর্তাকে একইদিন (১৫ আগস্ট) আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। এরপর রিমান্ড শেষ হলে তাদেরকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে।